নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ দেশের তিন শহরে বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালুর সরকারি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন কওমিপন্থি বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতারা। তবে নারীদের ভারী যানবাহন চালকের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তারা।
পাশাপাশি এই সেবা যেন অতীতে চালুর পর বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রকল্পগুলোর মতো হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সরকারের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক পৃথক পরিবহন ব্যবস্থাকে নারীদের জন্য নিরাপদ মনে করলেও ভারী যানবাহন চালানোর দায়িত্ব নারীদের দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছেন। একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘নারীদের জন্য আলাদা পরিবহন সার্ভিসকে আমরা তাদের জন্য নিরাপদ মনে করি। তবে ভারী গাড়ি চালানোর মতো দায়িত্ব নারীদের দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করি। কারণ, এত বড় গাড়ি চালানো (ঝুঁকিপূর্ণ) নারীদের পক্ষে কতটা উপযুক্ত হবে, সে বিষয় নিয়ে আমাদের কানসার্ন আছে।’
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের তিনটি প্রধান শহর—ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার মোট ১৩টি রুটে ১৪টি বাস দিয়ে এই সেবা শুরু হয়েছে।
এর মধ্যে রাজধানীতে ১০টি বাস এবং চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় দুটি করে বাস চলাচল করবে। যাত্রী সাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব বাসে ই-টিকিটিং পদ্ধতি, সিসি ক্যামেরা এবং জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বাসগুলো নারী চালক ও কন্ডাক্টরদের মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

