পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সব ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৪৩

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সব ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রবিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের সিল্কসিটি ট্রেন দুপুর দেড়টায়, শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের ধূমকেতু রবিবার সকাল ৮টায়, শনিবার বিকেল ৪টার ট্রেন রাত ৯টায় রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। এছাড়া শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ২০ মিনিটের ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন ওইদিন রাত ৪টায় এবং শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। 

রাজশাহী স্টেশন সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী প্রায় সকল ট্রেন সিডিউল বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত। রবিবার ঢাকাগামী ট্রেনের মধ্যে শুধুমাত্র বনলতা এক্সপ্রেস এবং খুলনাগামী সাগরদাড়ি, গোয়ালন্দগামী মধুমতি ও চিলাহাটিগামী তীতুমীর সঠিক সময়ে রাজশাহী ছেড়ে গেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো বলছে, ঈদের আগে থেকে এখন পর্যন্ত রেল সিডিউল বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ফলে স্টেশনে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন যাত্রীরা। কিন্তু স্টেশনে ট্রেন আসা-যাওয়ার সঠিক দেওয়ারও কেউ নেই। রাতের বেলা রাজশাহী, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম ও পূর্ব এবং ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ব্যতীত কোনো স্টেশনেই রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে খুঁজে পাওয়া যায় না।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে অনুসন্ধান নামের একটি কাউন্টার থাকলেও সেখানে দিনরাত চুটিয়ে ব্যবসা চলে। কিন্তু যাত্রীদের ফোন ধরা ও তথ্য দেওয়ার কোনো লোক থাকে না। কখনো ফোন ধরলেও সঠিক তথ্য দিতে পারে না। 

আরও পড়ুন: যাদুকাটা নদীটি যাদের কাছে ‘যাদুরকাঠি’

ভুক্তভোগী যাত্রীরা আরও জানান, চুক্তিভিত্তিক আনসার সদস্য ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাত ১০টার আগেই ডিউটি ছেড়ে ব্যারাকে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ফলে অরক্ষিত হয়ে পড়ে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে স্টেশন। শুধু তাই নয়, রাতের বেলা ট্রেনের ভেতরে গার্ড ও টিটিইরাও ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় ট্রেনে শুধুমাত্র ট্রেন চালক, বেসরকারি অ্যাটেনডেন্ট ও রেস্টুরেন্টের চা ও খাবার বিক্রেতা ছাড়া কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।
     
এসব বিষয়ে কথা বলতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিন্টেনডেন্ট আব্দুল করিমের অফিসে কয়েকবার গিয়ে এমনকি মোবাইল ফোনে অসংখ্যবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তাকেও। এ বিষয়ে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

ইত্তেফাক/অনি