ভারতের কংগ্রেস নেতা সোনিয়া গান্ধীর বহুল প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং- এ জার্নি অফ লাভ’ আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হবে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনযায়ী, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রকাশনা সংস্থা ‘আলফ্রেড এ নফ’ এই তথ্য জানিয়েছে।
বইটিতে ইতালির একটি ছোট শহরে বেড়ে ওঠা থেকে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য ও পরে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের নেতা হয়ে ওঠার ব্যক্তিগত যাত্রার কথা তুলে ধরেছেন সোনিয়া গান্ধী।
৭৯ বছর বয়সী সোনিয়া গান্ধীর জীবনে প্রেম, পারিবারিক সম্পর্ক, শোক, রাজনৈতিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত সংকট বইটির প্রধান বিষয়। এতে নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তার বিবাহিত জীবন, শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধী ও স্বামী রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ড, রাজনীতিতে তার প্রবেশ এবং কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেওয়ার দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা উঠে আসবে।
সোনিয়া গান্ধী জানিয়েছেন, তার পরিবারকে নিয়ে বহু লেখা হলেও পরিবারের সদস্যদের মানবিক দিক, তাদের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও দুর্বলতা খুব কমই উঠে এসেছে।
তার ভাষায়, এই বই মূলত সেই মানবিকতার প্রতি একধরনের শ্রদ্ধা। পাশাপাশি গত ছয় দশকে ভারতে দেখা সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনেরও ব্যক্তিগত সাক্ষ্য হয়ে উঠবে স্মৃতিকথাটি।
১৯৬৫ সালে ১৯ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে পড়াশোনার সময় রাজীব গান্ধীর সঙ্গে সোনিয়ার পরিচয় হয়। পরে তাদের বিয়ে হয় এবং তিনি ভারতের রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিবারে প্রবেশ করেন।
বইটির বিবরণ অনুযায়ী—শুরুতে হিন্দি ভাষা, শাড়ি ও ভারতীয় খাবারের সঙ্গে পরিচিত হওয়া থেকে শুরু করে শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুই স্মৃতিকথায় উঠে এসেছে।
১৯৮০ সালে রাজীবের ছোট ভাই সঞ্জয় গান্ধীর বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু ছিল পরিবারের প্রথম বড় ধাক্কাগুলোর একটি। এর চার বছর পর, ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ইন্দিরা গান্ধী তার নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে নিহত হন। মায়ের মৃত্যুর পর রাজীব গান্ধী আকস্মিকভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন।
কিন্তু ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ুতে নির্বাচনী প্রচারের সময় আত্মঘাতী হামলায় রাজীব গান্ধী নিহত হলে সোনিয়ার জীবন আবারও গভীরভাবে বদলে যায়। স্বামীর মৃত্যুর পরই ধীরে ধীরে তিনি ভারতের রাজনীতির প্রকাশ্য পরিসরে প্রবেশ করেন।
পরবর্তী সময়ে সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের দীর্ঘতম সময়ের সভাপতি হন। বিশেষ করে, ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর তার রাজনৈতিক ভূমিকা নতুন মাত্রা পায়। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) সরকার গঠন করলেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ তিনি নেননি।
তার পরিবর্তে মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী হন। টানা এক দশক ক্ষমতায় থাকা সেই সরকারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নির্ধারক ছিলেন সোনিয়া গান্ধী।
স্মৃতিকথায় জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সম্পর্কের বিষয়গুলোও বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে প্রকাশনা সংস্থা। সোনিয়া গান্ধীর ভাষায়, নিজের জীবন নিয়ে লেখা সহজ ছিল না; এর জন্য তাঁকে বহুদিন ধরে নিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার দরজা খুলতে হয়েছে।
‘বিলংগিং- এ জার্নি অফ লাভ’কে তাই শুধু একজন রাজনীতিকের আত্মজীবনী নয়; বরং প্রেম, পরিবার, শোক, দায়িত্ব ও একটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নারীর ব্যক্তিগত জীবনের বিবরণ হিসেবেও পাঠকের কাছে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে।

