ট্রাম্পের সঙ্গে ‘গোপন যোগাযোগের’ দাবি নাকচ করলেন কিমের বোন

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে বৈঠকের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি কিমের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ চলছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে কিমের ছোট বোন দুই নেতার মধ্যকার এই যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার আশা অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, কিমের সঙ্গে তার গোপনে কথাবার্তা চলছে। কিম আলোচনায় বসতে রাজি কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প জানান, তিনি রাজি আছেন। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিমের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থা করতে ট্রাম্প তার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠেয় এপেক শীর্ষ সম্মেলনের সময় দুই নেতার বৈঠক হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো-জং বলেন, দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তিনি ‘একেবারেই কিছু জানেন না’। তার ভাষ্য, ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো হলেও উত্তর কোরিয়ার দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো শত্রুদেশ।

কিম ইয়ো-জং বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুভাবাপন্ন নীতিতে একটুও পরিবর্তন আসেনি। এমনকি এ মুহূর্তেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা আমাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক সামরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।’

এর পরদিন সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে কিমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চান। তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি। শুধু চলতি বছর কিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বসব।’

কিমের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কিম জং-উনকে খুব ভালো করে চিনি এবং তিনি ভালো থাকবেন আশা করি। যত দিন তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে বুদ্ধি নিয়ে চলবেন, তত দিন তিনি ভালো থাকবেন। কিন্তু তিনি যদি বোকা হয়ে যান, তাহলে হয়তো খুব একটা ভালো থাকতে পারবেন না।’

এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এ ধরনের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সাধারণত প্রকাশ্যে জানানো হয় না। একই সঙ্গে তিনি ইরানকেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন।

তবে কিম ইয়ো-জংয়ের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উত্তর কোরিয়ার কঠোর অবস্থানই স্পষ্ট হয়েছে। একই বিবৃতিতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে তার ভাইয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার দাবি, কিমের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি ভালো অনুভূতি রয়েছে এবং দুই নেতার অতীতের কিছু ভালো স্মৃতিও রয়েছে।

ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ থাকলেও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

ইত্তেফাক/এসজেএস