দেশের বাজারে আরেক দফা স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। একই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।
এর আগে সর্বশেষ ১৫ আগস্ট স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে এবার আরও ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়ানো হলো।
চলতি বছর এ নিয়ে দেশের বাজারে ১০৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৫৩ দফা দাম বেড়েছে, ৫১ দফা কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে বেড়েছে রুপার দামও। ভরিতে ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছর এ পর্যন্ত ৬৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩০ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ১৩ বার; এর মধ্যে ১০ বার বেড়েছিল এবং তিনবার কমেছিল।

