প্যারোলে মুক্তি পেয়ে স্বামীকে শেষ বিদায় জানালেন দীপু মনি

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১১:১১

স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডির কলাবাগানের বাসায় পৌঁছান। 

এর আগে, দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গত মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে মায়ের প্যারোলে মুক্তির জন্য গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছোটাছুটি করেন তার মেয়ে তানী দীপাবলি ও আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম। পরে দুপুরে দীপু মনিকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্ত হয়েছেন দীপু মনি। মেয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকাল সোয়া ছয়টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্ত হয়ে বের হন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে প্রিজন ভ্যান ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের গাড়িতে করে দীপু মনিকে পুলিশি পাহারায় নিয়ে আসা হয়।  

জানা যায়, আজ ভোরের আলো ফোটার পরপরই কারা ফটকে প্রবেশ করে প্রিজন ভ্যান ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের গাড়ি। পরে সকাল সোয়া ৬টার দিকে দীপু মনি কারাগার থেকে পুলিশি পাহারায় বের হয়ে আসেন। পরে তাকে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার মো. হাসেম রেজা বলেন, ‘গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে দীপু মনিকে ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তির নির্দেশনার কাগজ পাই। সে অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়। আজ ভোরে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার নিরাপত্তার জন্য পুলিশের দুটি গাড়ি ও প্রিজন ভ্যানে পুলিশের ৩৮ জন সদস্য ছিলেন। তারা যেভাবে তাকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, সেভাবেই সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে গতকাল দুপুরে দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম তার চার দিনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। পরে মুন্সিগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য তার প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেন।

পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ আজ সকালে ঢাকার কলাবাগানে তার নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে স্বামীর মরদেহ দেখবেন দীপু মনি। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে গুলশানের আজাদ মসজিদে। সেখানে বাদ জোহর জানাজা ও দোয়া শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি হয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী ছিলেন দীপু মনি। দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী তৌফিক নেওয়াজ কিডনি ও লিভারের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। স্বামীর সঙ্গে কারাগারের বাইরে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে একাধিকবার আবেদন করেও তিনি অনুমতি পাননি। আদালতে তাকে হাজির করা হলে স্বামী তৌফিক নেওয়াজ শয্যাশায়ী অবস্থায় স্ট্রেচারে করে তার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন।

 

 

 
ইত্তেফাক/এনটিএম