নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জাহান তন্বীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকেসহ অভিযান পরিচালনাকারী দলের ৮ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের শতাধিক নারী-পুরুষ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৬টার দিকে উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের ডাংগাপাড়া গ্রামে চাঁড়ালকাঁটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এসিল্যান্ডসহ অবরুদ্ধ সবাইকে উদ্ধার করে। এ সময় একটি বালুবোঝাই মাহিন্দ্র ট্রাক্টর জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জাহান তন্বী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, একটি চক্র বাহাগিলি ইউনিয়নের ময়নাকুড়ি বাজারের পূর্ব দিকে সিনহা কোম্পানির সংলগ্ন এলাকায় চাঁড়ালকাঁটা নদী থেকে ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলন করে মাহিন্দ্র ট্রাক্টরে পরিবহন করছে। বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে চারজন পুলিশ সদস্য ও ভূমি অফিসের চারজন কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি মাহিন্দ্র ট্রাক্টরে বালু পরিবহন করতে দেখা যায়। বালুবোঝাই ট্রাক্টরগুলো আটকানোর চেষ্টা করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দুটি বালুবোঝাই ট্রলি জোর করে পালিয়ে যায়। এ সময় একটি বালুবোঝাই ট্রাক্টরের সামনে অবস্থান করলে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তনিমা জাহান তন্বী আরও বলেন, পরে শতাধিক নারী-পুরুষ তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। তারা বালুবোঝাই ট্রাক্টরটি ছেড়ে না দিলে সরকারি গাড়িও ছাড়বেন না বলে হুমকি দেন। একপর্যায়ে তারা তার গাড়ির সামনে বসে ও শুয়ে পড়েন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকেসহ অভিযানে থাকা অন্যদের উদ্ধার করে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসিল্যান্ড বলেন, “আমার পাঁচ মাস বয়সী বাচ্চাকে বাসায় রেখে অভিযানে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলাম। বাসায় আমার বাচ্চার কান্না থামছিল না। চাকরিজীবনে কখনো এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হইনি।”
অভিযুক্ত বালু উত্তোলন চক্রের নেতৃত্বে কারা রয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাহাগিলি ইউনিয়নের ডাংগাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে পারভেজ ও একই গ্রামের জাহেদুল ইসলামের ছেলে স্বপন এই চক্রের মূল হোতা বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি), পুলিশ সদস্যসহ অভিযানে অংশ নেওয়া সবাইকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে নিয়মিত মামলা করা হবে।

