ঝিনাইদহ শহরে মেসে খাবার ও বাজার করা নিয়ে বিরোধের জেরে রুমমেটের ছুরিকাঘাতে কাওসার (২১) নামে এক পলিটেকনিক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিসহ লিখন খাঁ (১৬) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের পৌর এলাকার মহিলা কলেজপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কাওসার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চটকাবাড়িয়া গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। আটক লিখন খাঁ সদর উপজেলার বাড়িবাথান দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে গান্না ইউনিয়নের শৈলমারি গ্রামের লিটু খাঁর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কাওসার ও লিখনসহ ৬-৭ জন শিক্ষার্থী একটি মেসে ভাড়া থাকতেন। তারা সবাই মিলে রান্না করে খাবার খেতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে খাবার কম পড়াকে কেন্দ্র করে কাওসার ও লিখনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় মেসের বাজার ও কেনাকাটা নিয়ে তাদের মধ্যে ফের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে লিখন মেসে থাকা একটি ছুরি দিয়ে কাওসারের ঘাড়ে আঘাত করেন।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত কাওসার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাহিদ এমরান তন্নী বলেন, ঘাড়ে আঘাতপ্রাপ্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় কাওসারকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, সন্ধ্যায় বাজার ও কেনাকাটা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে লিখন ছুরি দিয়ে কাওসারকে আঘাত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিসহ লিখনকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

