মাদারীপুরের শিবচরে ঝোপের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে নিহত নারীর ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতও উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার ও শিবচর সার্কেলের মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮-এর মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে। পরে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক ভিকটিমের এক বছর বয়সী শিশু সন্তান আবিরকে আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। নিখোঁজ শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার ও শিবচর সার্কেলের মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, ‘এটি একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার এবং আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, মাদারীপুর জেলা পুলিশ হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে তৎপর রয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, গ্রেপ্তার ফারুকের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির দাবি, মানুষের কাছে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে তিনি একটি পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টারের পরিচয়পত্র ব্যবহার করতেন। সেই পরিচয়কে ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিলেন কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো অপরাধী সাংবাদিকতার পরিচয়পত্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে থাকলে বিষয়টি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্রের অপব্যবহার, পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
তবে ফারুককে ওই পত্রিকার পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়টি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পাদক বা প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

