বিশ্বকাপে অসদাচরণ: ৩ ফুটবলারসহ আর্জেন্টিনা দলকে কঠোর শাস্তি দিলো ফিফা

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩৮

গত মাসে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষে সংঘর্ষে জড়ানোর ঘটনায় আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলারকে বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ করেছে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। তবে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে জরিমানা করা হয়েছে।

মাঠের সংঘর্ষে সবচেয়ে বড় শাস্তি পেয়েছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা পেয়েছেন সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং ৯০ হাজার ডলার জরিমানা।

অন্যদিকে থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করে ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ এবং ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। ফাইনালের সংঘর্ষের ঘটনায় স্পেনের গাভিকেও এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তার জরিমানা ৩০ হাজার ডলার।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের হাতে থাকা একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘Las Malvinas son Argentinas’, যার অর্থ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’।

এই ঘটনায় আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা। এর মধ্যে ব্যানার প্রদর্শনের জন্য ১০ হাজার ডলার এবং সমর্থকদের অনুপযুক্ত আচরণের জন্য আরও ২০ হাজার ডলার জরিমানা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাকি অর্থ বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে সমর্থকদের ফিফার বৈষম্যবিরোধী বিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে আর্জেন্টিনাকে পরবর্তী হোম ম্যাচে ৫০ শতাংশ দর্শক ধারণক্ষমতা নিয়ে খেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও একটি ম্যাচে একই ধরনের ৫০ শতাংশ দর্শক সীমাবদ্ধতা দেওয়া হলেও তা স্থগিত রাখা হয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, জরিমানার ১ লাখ ডলারও স্থগিত করা হয়েছে।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ যুক্তরাজ্যের একটি ওভারসিজ টেরিটরি। ২০১৩ সালের গণভোটে দ্বীপটির বাসিন্দারা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় যুক্তরাজ্যের অধীনে থাকার পক্ষে ভোট দেন। ১৯৮২ সালের এপ্রিলে আর্জেন্টিনা দ্বীপপুঞ্জটিতে সামরিক অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ওই বছরের জুনে আর্জেন্টিনার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

সেমিফাইনালের পর ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকজন রাজনীতিকও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। যুক্তরাজ্যের তৎকালীন ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল ঘটনাটিকে ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’ বলে মন্তব্য করেন।

আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ফিফার সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ জানতে তাদের আইন বিভাগ আবেদন করবে। এরপর যেসব শাস্তির বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ফিফার আপিল কমিটিতে আবেদন করা হবে। প্রয়োজনে শেষ ধাপে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট-এ যাওয়ার কথাও জানিয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, গত ৬ আগস্ট আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ঘোষণা করেছে যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের দিন ১৫ জুলাই ভবিষ্যতে ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।

সূত্র: ইএসপিএন

ইত্তেফাক/এএম