টাঙ্গাইলের সখীপুরে গভীর রাতে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীকে ঘরের বাইরে থেকে শেকল দিয়ে আটকে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জীবন বাঁচাতে দা দিয়ে টিনের বেড়া কেটে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন তারা। এ ঘটনায় লাল মিয়া (৫০) দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর উখারিয়াচালা এলাকায় লাল মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী লাল মিয়া জানান, রাতে তার স্ত্রী বেগম আক্তার ঘরের চারপাশে আগুন দেখতে পান। পরে তিনি তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। আগুনের বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা দ্রুত দরজা খুলে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দরজা খুলতে গিয়ে দেখেন, বাইরে থেকে শেকল দিয়ে ঘরটি আটকে দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে আগুন দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভেতর পেট্রোলের তীব্র গন্ধ ও ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। একপর্যায়ে পুরো ঘর অন্ধকার হয়ে পড়লে জীবন বাঁচাতে ঘরে থাকা দা দিয়ে টিনের বেড়া কেটে কোনো রকমে বাইরে বেরিয়ে আসেন তারা।
আগুনে লাল মিয়ার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আগুনে বসতঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। এতে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
লাল মিয়ার স্ত্রী বেগম আক্তার অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে প্রতিবেশী হাসেম, কাশেম, জুয়েল, মোশাররফ, আশ্রব আলী ও কাঞ্চনমালাদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। কয়েক দিন আগেও তাদের পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পূর্ববিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ঘরের বাইরে শেকল লাগিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দম্পতিকে উদ্ধারে সহযোগিতা করেন। টিনের বেড়া কেটে তারা বের হতে না পারলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।
সখীপুর ফায়ার সার্ভিসের গ্রুপ লিডার সোহেল রানা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সখীপুর থানার ওসি (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

