সরকারি ভাতার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, রংপুরে বিএনপি নেতাকে শোকজ

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২৫

রংপুরের কাউনিয়ার হারাগাছ পৌর শহরে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে সরকারি ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হারাগাছ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম রঞ্জুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে পৌর বিএনপি।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে হারাগাছ পৌর বিএনপির সভাপতি মোনায়েন হোসেন ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন দাজুর স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে আগামী তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শোকজ পাওয়া সাইদুল ইসলাম রঞ্জু বিড়ি শিল্পনগরী হারাগাছ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, হারাগাছ পৌর শহরের মোল্লাটারী জামে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে সরকারি ভাতা দেওয়ার কথা বলে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম রঞ্জুর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করেন হারাগাছ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন দাজু।

তিনি বলেন, ‘সরকারি ভাতা দেওয়ার নামে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া অপরাধ। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সরকারি ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম রঞ্জুর টাকা নেওয়া এবং পরে ফেরত দেওয়ার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।’

নুরুল আমিন দাজু আরও বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর পৌর বিএনপির নেতারা তদন্ত করেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সাইদুল ইসলাম রঞ্জুকে শোকজ করা হয়েছে।

মোল্লাটারী জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন নুর আমীন বলেন, সরকারি ভাতার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে বিএনপি নেতা রঞ্জু প্রথমে তাদের তিনজনের কাছে ৩৪ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে আলোচনার একপর্যায়ে ৩০ হাজার টাকা দিলে নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্য, তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আশায় তারা প্রথমে ১৫ হাজার টাকা দেন এবং বাকি টাকা কয়েক দিন পর দেওয়ার কথা বলেন। তবে দলীয় পরিচয়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরদিন রঞ্জু ওই টাকা ফেরত দেন।

অভিযোগের বিষয়ে শোকজ পাওয়া সাইদুল ইসলাম রঞ্জুর দাবি, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

ইত্তেফাক/এমএএম