জামায়াত নেতাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দিলেন সাইফুল আলম

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৮

দলের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, পেশা ও সাংগঠনিক দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় ও ভারসাম্য বজায় রেখে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।

তিনি বলেছেন, একটি দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্য দায়িত্ব অবহেলা করা দায়িত্বশীলতার পরিচয় হতে পারে না। আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই একজন মুমিনের কর্তব্য।

শনিবার (২২ আগস্ট) জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা আয়োজিত দুদিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, একজন দায়িত্বশীলের প্রথম করণীয় হলো নিজের সময়, কর্মপরিকল্পনা ও কাজের অগ্রাধিকার সঠিকভাবে নির্ধারণ করা। ব্যক্তিগত ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের প্রাপ্য অধিকারও যথাযথভাবে আদায় করতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবারকে সময় না দিয়ে শুধু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকাও যেমন সঠিক নয়, তেমনি পারিবারিক ব্যস্ততাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে সাংগঠনিক দায়িত্বে অবহেলা করাও কাম্য নয়। একজন দায়িত্বশীলকে সব ক্ষেত্রের দায়িত্বের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় বজায় রেখেই এগিয়ে যেতে হবে।

পেশাগত দায়িত্বকেও একজন দায়িত্বশীলের জন্য আমানত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পেশাগত দায়িত্বে অবহেলা করে সংগঠনের কাজ করাকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

একইভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, কর্মবণ্টন, সময়ের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, দায়িত্বগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে সময় ব্যবস্থাপনা ও কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণে দায়িত্বশীলদের দক্ষ হতে হবে। কোন কাজ আগে করা প্রয়োজন, কোন দায়িত্ব অন্যের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব এবং কোন কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে এসব বিষয়ে আগে থেকেই সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি।

তিনি বলেন, দায়িত্ব অর্পণ ও সঠিক কর্মবণ্টনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে। সব কাজ নিজে করার মানসিকতা পরিহার করে অন্যদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

পরিবারকে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির শক্তির অন্যতম জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা, তাদের প্রয়োজন বোঝা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। পরিবারে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকলে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি সমাজ ও সংগঠনের কাজেও আরও বেশি মনোযোগী এবং কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আত্মসমালোচনা ও নিয়মিত পর্যালোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, প্রতিদিন অথবা সপ্তাহভিত্তিক নিজের কাজের হিসাব নিতে হবে। কোথায় সফলতা এসেছে, কোন জায়গায় ঘাটতি রয়েছে এবং সেই ঘাটতি কীভাবে সংশোধন করা সম্ভব এসব বিষয় চিহ্নিত করতে হবে। তার মতে, নিয়মিত আত্মমূল্যায়নের মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার, পেশা ও সংগঠনের দায়িত্বের মধ্যে আরও সুন্দর ও কার্যকর সমন্বয় গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, দায়িত্বশীলদের লক্ষ্য কেবল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বৃদ্ধি করা নয়। উত্তম চরিত্র, দায়িত্বশীলতা, আমানতদারি এবং মানুষের কল্যাণে কাজের মাধ্যমে নিজেদের আদর্শ মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।

সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ব্যক্তি জীবনে আদর্শবান, পরিবারে দায়িত্বশীল, পেশাগত জীবনে সৎ ও দক্ষ এবং সংগঠনের কাজে সক্রিয় এই চারটি গুণের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারলেই একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি প্রকৃত অর্থে সফল হতে পারবেন।

শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় যুব বিভাগের সেক্রেটারি মঞ্জরুল ইসলাম ভূইয়া সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা প্রণয়ন, যথাযথ কর্মবণ্টন, সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও কার্যক্রমের নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 
ইত্তেফাক/এমএসআর