বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার সংকট দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছরকে কোনোভাবেই ২০ বছরে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১০ বছর একটি সরকারের জন্য একটি নীতিগত চক্র হলেও শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর কাছে এটি তার পুরো শৈশব, একজন তরুণের কাছে হারিয়ে যাওয়া শিক্ষা এবং একটি পরিবারের কাছে ঘরছাড়া জীবনের এক দশক। আমরা কিছুতেই এই ১০ বছরকে ২০ বছরে পরিণত হতে দিতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালের ব্যাপক অনুপ্রবেশের পর বাংলাদেশ সীমান্ত ও হৃদয় উন্মুক্ত করে ১০ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কাজ করেছে মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে।’
তবে বাংলাদেশ এমন একটি সংকটের চূড়ান্ত সমাধান করতে পারে না, যে সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি-উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। তাই এর টেকসই সমাধানও চূড়ান্তভাবে মিয়ানমারেই খুঁজে বের করতে হবে।’
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। এটি শুধু একটি কূটনৈতিক পথ নয়, বরং সামনে এগোনোর একমাত্র টেকসই উপায়। রোহিঙ্গারাও বারবার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তাই তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।’
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে ২০১৭ সালের পর রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে জন্ম নেয়া শিশুদেরও যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
মানবিক সহায়তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান) সংকুচিত হলেও রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন কমেনি। খাদ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা ও সুরক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়; এগুলো জীবন রক্ষার অপরিহার্য উপাদান।’
কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে স্থানীয় জনগণ জমি, সম্পদ, পরিবেশ ও জনসেবার ওপর বাড়তি চাপ সহ্য করছে। তাই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তাকেও মানবিক কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয়, জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, টেকসই কূটনীতি, নিশ্চিত অর্থায়ন ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।’

