বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তথ্য সংগ্রহ করে ডলারে চাঁদা দাবি করত চক্রটি: ডিবিপ্রধান

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৩৫

দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবিপ্রধান) শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি চক্র সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালের অন্তত পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে টার্গেট করেছিল। তাদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড–নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমান ও আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল হক ছিলেন। চক্রটি চিকিৎসকদের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি করত। চাঁদা না দেওয়ায় আসাদুর রহমানের ওপর হামলা করা হয়। সাত সদস্যের এই চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চক্রটি ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসকদের বাসা–চেম্বারের ঠিকানা ও সন্তানদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করত। এরপর আর্থিকভাবে সচ্ছল, এমন চিকিৎসকদের বাছাই করে তাদের মুঠোফোনে ডলারে চাঁদা দাবি করা হতো। গত ২৭ জুলাই ধানমন্ডি ৪ নম্বর সড়কে পাঁচ দুষ্কৃতকারী গাড়ি প্রতিরোধ করে চিকিৎসক আমিনুল হককে হুমকি দেন। ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরে হামলার শিকার হন চিকিৎসক আসাদুর রহমান। 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পল্টন মডেল থানা–পুলিশ গিয়ে জীবন ওরফে আদিল নামের একজনকে আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় আসাদুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার কিছুদিন আগে একটি অপরিচিত মুঠোফোন নম্বর থেকে কল করে তার কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।

শফিকুল ইসলাম বলেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে ডিবি। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে শনির আখড়া থেকে সানি সাহাকে (৩৮) ও খিলক্ষেত থেকে ফাতিন ইসরাক লাবিবকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। আর এর আগে এ ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে চক্রটির চার সদস্য এখন গ্রেপ্তার আছেন।

ডিবির ভাষ্যমতে, চক্রটির পেছনের মূল ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন সানি সাহা। তিনি ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে কাজ করেছিলেন। পরে হুন্ডির ব্যবসায় যুক্ত হয়ে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েন। এই ক্ষতি কাটাতে তিনি এ ধরনের চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন।

ডিবি বলছে, ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে থাকাকালে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে সানির পরিচয় হয়। পরে সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের বাসার ঠিকানা, গাড়ির নম্বর, পেশা, গতিবিধি, আর্থিক বিষয়সহ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব সানিকে দেওয়া হয়। চিকিৎসক আমিনুল হক ও আসাদুর রহমানকে হুমকি দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের জন্যও তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সানি পরে হামলার জন্য সদস্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেন ফাতিনকে। ফাতিন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, আসাদুর রহমানের ওপর হামলার জন্য আবু বকর (১৮), রাতুল (১৯), ইবান (২২), জীবন (২১) ও সাব্বিরকে (১৮) এক লাখ টাকার বিনিময়ে এই কাজে যুক্ত করেন। তাঁদের মধ্যে ইবান ও জীবন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকদের পাশাপাশি সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও নিশানা করত চক্রটি। আরেকটি চক্র বিভিন্ন দূতাবাসে ই–মেইলের মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে। সেই চক্রকে ধরতেও কাজ করছে ডিবি।

ইত্তেফাক/এনএ