পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সোমবার (২৪ আগস্ট) ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করবেন। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি এ সফর করবেন বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার (২৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য জানান। পাকিস্তান সরকারের দুটি সূত্রও বার্তা সংস্থাকে আসিম মুনিরের তেহরান সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সফরে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি নিয়েও আলোচনা হবে বলে পাকিস্তানের একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি, পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের সাম্প্রতিক চুক্তির পরবর্তী পরিস্থিতি এবং হুথিদের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইরানি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন আসিম মুনির।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে এ সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা এসব নিষেধাজ্ঞাকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা বা বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া দেশের বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর ফলে নিষেধাজ্ঞায় আগে থেকেই চাপে থাকা ইরানের অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তেহরান জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা যেকোনো তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হতে পারে।

