নিউইয়র্কে ফাস্টফুডের দোকানে গুলি, বাংলাদেশি নিহত

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৩

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রুকলিনে বন্দুকধারীর গুলিতে মো. রাজু নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৩ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকার ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রাজু নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কংশনগর গ্রামের বাসিন্দা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিচালিত বাংলা সংবাদমাধ্যম ঠিকানার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় এক বন্দুকধারী রেস্তোরাঁয় ঢুকে আকস্মিকভাবে গুলি চালায়। এতে সেখানে কর্মরত রাজু এবং উপস্থিত আরও এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। রাজুর বুকে এবং অপর বাংলাদেশির পায়ে গুলি লাগে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন পুলিশের তদন্তদল।

গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকেই উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়। পায়ে গুলিবিদ্ধ অপর বাংলাদেশি চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

রাজুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, রাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজুর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে তাঁর পরিবার।

নিউইয়র্কের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যরাতের পর ব্রাউনসভিলে রকাওয়ে অ্যাভিনিউ ও নিউপোর্ট স্ট্রিটের কাছে ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ রেস্তোরাঁয় এই গুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী এক কর্মীর মাথায় গুলি লাগে। একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তির ডান পায়ে গুলি লাগে।

জরুরি বিভাগের কর্মীরা দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে কয়েক ব্লক দূরে অবস্থিত ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ৪৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত অপর ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পরপরই কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি নিউইয়র্ক পুলিশ। হামলার কারণ এবং বন্দুকধারীর পরিচয় জানতে তদন্ত চলছে।

এদিকে, ব্রুকলিনে একের পর এক সহিংসতার ঘটনার পরপরই এই হত্যাকাণ্ড ঘটল। এর আগে শুক্রবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে ইস্ট নিউইয়র্কের নাইচার পিংক হাউসের বাইরে ২৭ বছর বয়সী গুরদীপ সিংকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পেশায় পিৎজা ডেলিভারি কর্মী গুরদীপকে ক্রিসেন্ট স্ট্রিট ও স্ট্যানলি অ্যাভিনিউয়ের কাছে বাগ্‌বিতণ্ডার সময় বুক ও পেটে সাতটি গুলি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে হামলাকারী গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

এর একদিন আগে, বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে একই এলাকায় ১৭ বছর বয়সী অহমীর জর্ডানকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। গুরদীপ সিং হত্যার স্থান থেকে প্রায় দেড় মাইল দূরে এই ঘটনা ঘটে। শনিবার নিউইয়র্ক পুলিশ সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করলেও তাদের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ইত্তেফাক/আইএ