সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত, অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১২

পঞ্চগড়ে চাঞ্চল্যকর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের একটি মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। মামলার ৫ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দিয়েছেন আদালত। 

ডিএনএ পরীক্ষাসহ সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে সম্প্রতি এ রায় দেন পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মুহম্মদ ফজলুল বারী।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে ৩০ বছর বয়সী এক নারী সদর উপজেলার জগদল এলাকার জনি ইসলাম (২৭), বিপ্লব হোসেন (২৫), মোকছেদুল ইসলাম (৩২), সাদেকুল ইসলাম (৩২) ও খয়রুল ইসলাম (৪২)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, পঞ্চগড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনমাইল এলাকায় তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মুখ চেপে ধরে রাস্তার পাশে নিয়ে যান আসামিরা।

এ সময় তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। খবর পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ তাকে ও তার শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। 

তবে তদন্তে মামলার অভিযোগের সঙ্গে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। বাদীর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা বীর্যের নমুনার সঙ্গে মামলার কোনো আসামির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায়নি। বরং ওই নমুনার সঙ্গে জগদল এলাকার আইবুল হক নামের এক ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ওই নারী আইবুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তদন্তে তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে। পরে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ প্রতিবেদনসহ মামলার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত ৫ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার আসামিরা। তাদের দাবি, ওই নারী ও আইবুল হকের অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করতে  গিয়ে তাদের ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের নাটক সাজানো হয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান জানান, আদালত মামলার সব নথিপত্র, পুলিশ প্রতিবেদন ও ডিএনএ প্রতিবেদন সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেছেন। বিচার-বিশ্লেষণের পর আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা ন্যায়সঙ্গত ও আইনসম্মত। এর মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতার বিরুদ্ধেও একটি আইনি বার্তা দেয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান রাশেদ জানান, ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালতে আমরা আসামিদের নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালতের এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

ইত্তেফাক/পিএস