অর্থবছরের প্রথম মাসে উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের ১ টাকাও খরচ করেনি ১০ মন্ত্রণালয়

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২৩:২২

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের কোনো টাকা খরচ করতে পারেনি সরকারের ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। পুরো বছরে এসব খাতের জন্য শত শত কোটি টাকার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রথম মাসে তাদের খরচের হিসাব পুরোপুরি শূন্য। এর ফলে সার্বিকভাবে অর্থবছরের প্রথম মাস শেষে এডিপি বাস্তবায়নের হার এক শতাংশের কোটাও পার হতে পারেনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ চিত্র প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ৩ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার এডিপি বরাদ্দের বিপরীতে জুলাই শেষে ব্যয় হয়েছে মাত্র ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের মাত্র ০.৬৯ শতাংশ। শতাংশের দিক থেকে এই হার গত ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাসের ১ শতাংশের বেশি খরচের হারের তুলনায় কম এবং গত অর্থবছরের সমপরিমাণ।

জুলাই মাসে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে হিসাবে খাতা খুলতে না পারা অন্য মন্ত্রণালয়ের বা বিভাগগুলো হলো– শিল্প; বাণিজ্য; ধর্ম; পররাষ্ট্র; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন; পাবর্ত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়; স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ; স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ; সেতু বিভাগ; অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ খরচ করতে পারেনি।

এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে ৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের বরাদ্দ ৫ হাজার ৪৯৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। সেতু বিভাগের জন্য বরাদ্দ ২ হাজার ৫৯৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ৮৬৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ ১ হাজার ৩৭০ কোটি ৩ লাখ টাকা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১ হাজার ২৫৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ১৪৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এসব বরাদ্দের বিপরীতে জুলাই মাসে কোনো অর্থ ব্যয় দেখাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।

অন্যদিকে জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩৩ হাজার ৩৭৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। জুলাইয়ে ব্যয় হয়েছে ৯৫১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বরাদ্দের ২৬৫ কোটি ৫৭ লাখ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ ২০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ব্যয় করেছে ১৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ৮১ কোটি ৩২ লাখ টাকা অর্থ ব্যয় করেছে।

শতাংশের হিসাবে বরাদ্দের সবচেয়ে বেশি এডিপি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন। সংস্থাটির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যার মধ্যে জুলাইয়ে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ফলে বরাদ্দের প্রায় ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে সরকারি কর্মকমিশন। সংসদ বিষয়ক সচিবালয় ব্যয় করেছে প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ব্যয় করেছে প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ।

এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন জুলাইয়ে তাদের উন্নয়ন বরাদ্দের প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও বরাদ্দের ৫ শতাংশের বেশি অর্থ খরচ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট মাসে প্রকল্পের কার্যাদেশ ঠিক করতে কিংবা ক্রয় পরিকল্পনা করতেই চলে যায়। টেন্ডার করতে অক্টোবর মাস লেগে যায়। মূলত সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্পের মূল্য ব্যয় শুরু হয়। তাই শুরুতে এডিপি বাস্তবায়ন হার কিছুটা কম।’

ইত্তেফাক/এমএসআর