ভূরুঙ্গামারীতে লুট হওয়া ১০৭ বস্তা উদ্ধার

সারপ্রত্যাশী কৃষকদের হয়রানি চলছেই

  • ঈশ্বরগঞ্জে সার মজুতকারীর কারাদণ্ড
  • নন্দীগ্রামে চার ব্যবসায়ীর জরিমানা
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০০

আমনের ভরা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সার নিয়ে কৃষকদের ভোগান্তি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও সরকার-নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও অবৈধভাবে সার মজুত ও অনুমোদন ছাড়া বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা জানান, ক্ষেতলালে সার পেতে কৃষকদের দিনের পর দিন ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে ঘুরতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিলে চাহিদামতো সার মিলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, ৫০ কেজির ইউরিয়ার বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকার বদলে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার এবং ডিএপি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সার ডিলার সমিতির সভাপতি রওনকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্যতা কিছুটা কম হলেও বড় ধরনের সংকট নেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশও উপজেলায় সারের সংকট নেই দাবি করে বলেন, বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২৩ আগস্ট সার সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, উচাখিলা বাজারে অবৈধভাবে ৬৩৬ বস্তা সার মজুতের দায়ে নুর এ আলমকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তার গোডাউন থেকে ৩৯১ বস্তা ইউরিয়া, ১৬০ বস্তা ডিএপি ও ৮৫ বস্তা এমওপি জব্দ করা হয়। একই অভিযানে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় সার ব্যবসায়ী শ্যামল চন্দ্র সাহাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা সার সরকার-নির্ধারিত মূল্যে মূল ডিলারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান জানান, অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, অনুমোদন ছাড়া সার বিক্রি এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় চার ব্যবসায়ীকে মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার ওমরপুর ও হাটকড়ই বাজারে অভিযান চালিয়ে মেসার্স অংকন ট্রেডার্সকে ১০ হাজার, মেসার্স মোহসিন ট্রেডার্স, মেসার্স স্বপন ট্রেডার্স ও মেসার্স আলহাজ ট্রেডার্সকে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার এ অভিযান পরিচালনা করেন।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী জানান, আমনের মৌসুমে রাজশাহীতে ডিলার পয়েন্টে সার না পেয়ে কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। পবার নতুন কসবা গ্রামের কৃষক গোলাম পাঞ্জাতন জানান, ১১ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করলেও এখন পর্যন্ত এক ছটাক সার দিতে পারেননি এবং তিন দিন ডিলার পয়েন্টে ঘুরেও সার পাননি। এদিকে ‘রাজশাহীতে সারের জন্য কৃষকদের হাহাকার’ শীর্ষক খবর প্রকাশের দিন ২২ আগস্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহীর উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন শরীয়তপুরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন। গত সপ্তাহে সার মজুতের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর গোয়ালঘর থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার সার জব্দের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। সংকট এড়াতে রাজশাহীতে বাড়তি সার বরাদ্দ চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলারের গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে ১৬৭ বস্তা সার লুটের ঘটনায় সার ডিলার থানায় জিডি করেছেন। এ ঘটনায় তিলাই গ্রামের আব্দুল লতিফকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তায় সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ১০৭ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিলার। ঘটনা তদন্তে উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের এবং কৃষি বিভাগ তিন সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন