টানা বাড়ার পর বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৫

টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর অবশেষে কিছুটা কমেছে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিনের শুরুতে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৪০ দশমিক ৩৯ ডলারে নেমেছে। এর আগের দিনই তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল মূল্যবান ধাতুটির দাম।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্পট গোল্ডের দাম কমে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৯৬ ডলারে অবস্থান করে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দামে এই পতন সাময়িক হতে পারে। মূল্যবান ধাতুটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনো শক্তিশালী রয়েছে। আইজি মার্কেট অ্যানালিস্ট টনি সাইকামোরের ধারণা, দাম কিছুটা কমলে নতুন করে ক্রেতারা বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। এতে স্বর্ণের দাম ধীরে ধীরে ৪ হাজার ৯০০ থেকে ৫ হাজার ডলারের নতুন প্রতিরোধস্তরে পৌঁছাতে পারে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের একটি সিদ্ধান্ত স্বর্ণের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। গত সপ্তাহে দীর্ঘমেয়াদি নোট ও বন্ড পুনঃক্রয় কার্যক্রমে তারল্য সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেয় মার্কিন ট্রেজারি। এর ফলে ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

সাধারণত মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন বিনিয়োগকারীরা। তবে সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণ কোনো সুদ বা নিয়মিত মুনাফা না দেওয়ায় এর আকর্ষণ কিছুটা কমে যেতে পারে।

এদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও স্বর্ণের বাজারকে প্রভাবিত করছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর পর ইরান পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা শক্তিশালী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। মঙ্গলবার রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ০১ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।

ইত্তেফাক/আইএ