চীনের নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, সরাসরি আঘাত হানতে পারবে যুক্তরাষ্ট্রেও

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৫৯

হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র চালনায় সক্ষম নতুন এক ধরনের অস্ত্র তৈরি করেছে চীন, যা দিয়ে বহুদূরে থাকা মার্কিন বিমানকে নিশানা করা সম্ভব। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ব্লুমবার্গের তথ্যের বরাতে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের ঘাটতির সময়ে চীনের এই নতুন প্রযুক্তি সামনে এলো। চীন বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা এই প্রযুক্তির এইচজিভি চালনা ও উন্নয়ন করছে। এই অস্ত্র দিয়ে হাজার মাইল দূরে থাকা আমেরিকার রিফুয়েলিং ট্যাংকার ও আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া বিমানগুলোকে সহজেই লক্ষ্যবস্তু করা যাবে।

চীনের ‘ডিএফ-১৭’ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নির্গত এইচজিভি প্রায় ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে, যা প্রশান্ত মহাসাগরের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুয়ামের খুব কাছাকাছি। অন্যদিকে তাদের উন্নত ‘ডিএফ-২৭’ ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার, যা হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জকেও হামলার আওতায় নিয়ে আসে। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে চীনের কাছে ৩ হাজার ১৫০টির বেশি ব্যালিস্টিক ও ৩০০টির বেশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

তবে দূরপাল্লার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানে হামলা চালানো বেশ কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে এটি ২০ মিনিট বা তার বেশি সময় নিতে পারে এবং এতে রিয়েল-টাইম তথ্যের প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি পারমাণবিক হামলার ভুল ধারণা তৈরি হয়ে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরুর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কতা দিয়েছে ব্লুমবার্গ।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ‘এইম-১৭৪বি’ ও ৩০০ মাইল দূরত্বের ‘এইম-৪২৪ ম্যালিস’ পরীক্ষা চালাচ্ছে। পাশাপাশি লখিদ মার্টিনের ‘এইম-২৬০’ উৎপাদন পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপে ১০০ মাইল পাল্লার ‘মিটিওর’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে।

সূত্র: নডিটিভি

ইত্তেফাক/টিএইচ