কলকাতায় হঠাৎ করেই বেড়েছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কেনার প্রবণতা। আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ আগুনে নয়জনের মৃত্যুর পর শহরবাসীর মধ্যে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও সচেতনতা দুটোই বেড়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি অনেকেই নিজেদের বাড়ির নিরাপত্তার জন্য ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ফায়ার অ্যালার্মসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনছেন।
সম্প্রতি পর্যটকদের নিরাপত্তায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের ২৩ জেলায় আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউস ও রেস্তোরাগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার পাশাপাশি ফায়ার অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন তৎপরতার পর থেকেই অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
মধ্য কলকাতার একটি অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের দোকানে এসেছিলেন চিকিৎসক অরুণ রবি মণ্ডল। মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুনের ঘটনার পর তিনি নিজের বাড়ি ও বাড়ির সঙ্গে থাকা চেম্বারের জন্য নতুন ফায়ার এক্সটিংগুইশার কিনছেন।
অরুণ রবি মণ্ডল বলেন, শহরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখে তিনি আতঙ্কিত। বাড়িতে থাকা পুরোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে সরঞ্জাম কিনছেন। তার মতে, শুধু একটি যন্ত্র রাখলেই হবে না, আগুন মোকাবিলায় বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন।
অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ফায়ারশিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ইকুইপমেন্টের কর্ণধার অঙ্কিত জালাল বলেন, আগুন লাগার পর প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। তাই আইন মেনে চলার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফায়ার এক্সটিংগুইশার ও অ্যালার্ম রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
আরেক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কর্মী তমাল দাস জানান, সাম্প্রতিক ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। আগে যারা কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম কিনতেন না, তারাও এখন এগুলো সংগ্রহ করছেন। শুধু বাড়ি, হোটেল বা রেস্তোরাঁ নয়, ছোট দোকান ও চায়ের দোকানের মালিকরাও ফায়ার এক্সটিংগুইশার কিনতে আসছেন বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ১৫জি মির্জা গালিব স্ট্রিটে ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে আগুনের ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং দুজন ভারতীয়। তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু ছিল।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কলকাতাজুড়ে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ফায়ার এক্সটিংগুইশার ও অ্যালার্মের মতো সরঞ্জাম কেনার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

