গবেষণা প্রতিবেদনে কারখানা বন্ধের তথ্য যাচাই ছাড়া উল্লেখ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এ বিষয়টিকে ‘অনবধানতাবশত বিভ্রান্তি’ উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করছি সিপিডি। গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার ধানমন্ডির কার্যালয়ে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস :একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপের আয়োজন করে সিপিডি। সেখানে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে ১১ নম্বর স্লাইডে শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক অধ্যায়ে বলা হয়েছিল, জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ সময়কালে তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে (গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী) ৯৫টি কারখানা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মহীন হয়েছেন। এ বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়। পরে তথ্যের উত্স নিয়ে ঢাকাভিত্তিক ডিজিটাল অনুসন্ধানমূলক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট তথ্যের উত্স নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এটি নজরে আসার পর গতকাল মঙ্গলবার সিপিডি জানায়, প্রতিবেদনের গবেষণাপদ্ধতির অংশে বলা হয়েছিল যে, এতে ব্যবহূত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংসদীয় ও মন্ত্রী পর্যায়ের বিবৃতি, জাতীয় বাজেট, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উেসর সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
উপরে উল্লেখিত শিল্পকারখানা সংক্রান্ত তথ্যটি ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকা ট্রিবিউনে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে নেওয়া হয়েছিল (২৫ আগস্ট বিকাল ৪টা ৩৪ মিনিটে সংবাদমাধ্যমটি প্রতিবেদনটি সংশোধন করে)। প্রতিবেদন তৈরির সময় আমাদের পক্ষ থেকে তথ্যটির মূল উত্স যাচাই করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ঢাকা ট্রিবিউনের আগের সংবাদটিতে ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি সংবাদের মূল সময়কাল পরিবর্তন করে জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ উল্লেখ করে। এর ফলে এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অনবধানতাবশত বিভ্রান্তি সৃষ্টির ফলে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।
সিপিডি আরো উল্লেখ করেছে, যে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও তাদের নেতারা শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে আসছেন, যা আমাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ কারণেই আমরা বিষয়টি তুলে ধরেছি। উল্লেখ করা তথ্যে বিভ্রান্তি থাকলেও অর্থনীতির এই বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ অমূলক নয়। আমরা মনে করি এক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। সিপিডির গবেষণা দল ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যগত বিভ্রান্তি এড়াতে আরো সতর্ক থাকবে বলেও জানায়।

