মেহেরপুর শহরে গভীর রাতে এক তরুণীর বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে। হামলায় ওই তরুণীর ডান হাত কবজির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়ে আহত হয়েছেন তার বাবা ও মাও। ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে গেলেও তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাওন শহরের মল্লিকপাড়া এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে।
হামলায় আহত তিনজন হলেন সেলিম হোসেন, তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন এবং তাদের মেয়ে স্মৃতি আক্তার। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শাওন ও স্মৃতি আক্তারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ওই সম্পর্কের সূত্র ধরেই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত দেড়টার দিকে সায়ন ওই বাড়িতে প্রবেশ করে তার মেয়ে স্মৃতি আক্তারের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে কুপিয়ে স্মৃতির ডান হাত কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তার বাবা-মা এগিয়ে এলে তাদেরও কুপিয়ে আহত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত যুবক।
হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন শাওন। পরে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান শুরু করে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত শাওনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। হামলার কারণ ও পূর্ববিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

