প্রবাসী স্বামীকে তালাক না দিয়েই প্রেমিককে বিয়ে করলেন ৪ সন্তানের মা

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪২

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রবাসে থাকা স্বামীকে তালাক না দিয়েই পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে চার সন্তানের এক মায়ের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রবাসী স্বামীর স্বর্ণালংকারসহ প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে ওই নারীর বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী জাকির হোসেনের বোন মারুফা বেগম। 

ভুক্তভোগী ইতালী প্রবাসী জাকির উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের উত্তর রায়পুর এলাকার আলী হায়দারের ছেলে। অভিযুক্ত নারী একই উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

প্রবাসীর অভিযোগ ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২২ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয় এবং তাঁদের সংসারে চার সন্তান রয়েছে। ২০০৯ সালে স্ত্রীকে ইতালিতে নিয়ে যান জাকির। তবে সেখানে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশে একাধিক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন ওই নারী। যা নিয়ে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে চরম অশান্তি সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে গত দুই মাস আগে বাবার অসুস্থতার কথা বলে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরে আসেন ওই নারী। দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি স্বামী জাকিরের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

স্বামীকে প্রবাসে রেখে অভিযুক্ত নারী রায়পুরের বামনী ইউনিয়নের পূর্ব কাঞ্চনপুর এলাকার বাসিন্দা সৌরভ হোসেন চুট্টুকে বিয়ে করেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারী মারুফা বেগম জানান, তার ভাইকে তালাক না দিয়েই ওই নারী তার পরকীয়া প্রেমিককে  বিয়ে করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার ভাইয়ের স্বর্ণালংকারসহ প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারীর পরিবারের সদস্যরাও জড়িত। 

মারুফা বেগমের ভাষ্য, এসব ঘটনার কারণে তার দুই ভাগনি ও দুই ভাগিনা অসহায় হয়ে পড়েছে এবং তার প্রবাসী ভাইও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারী বলেন, ‘জাকির আমাকে ইতালিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। এজন্য অন্য একজনকে বিয়ে করেছি। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি।’ জাকিরকে তালাক না দিয়েই বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমএসআর