নওগাঁয় আম বাগানের ৮ হাজার গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৯

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ৪৬ বিঘা জমির প্রায় আট হাজার আম গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আমচাষী ইমারত মোল্লাহ নিয়ামতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

থানা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ৯টায় ইমারত উল্লাহ বাগানে কাজ করছিলেন। এসময় ওই গ্রামের বাবর আলী ও পত্মীতলা উপজেলার খোরশেদসহ প্রতিপক্ষের ২০ থেকে ৩০ জন লোক বাগানে ঢুকে এরামত মোল্লাহসহ বাগানে থাকা শ্রমিকদের তাড়িয়ে প্রায় ৮ হাজার গাছের ডাল কেটে ফেলেন।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, ইমারত মোল্লাহ ২০২৩ সালের জুনে বাবর আলী ও খোরশেদের কাছ থেকে ৪৬ বিঘার বাগান লিজ নেন। চুক্তিনামা অনুযায়ী প্রতিবছর ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ২৮৫ টাকা দরে দেওয়ার কথা রয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে। এরই মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষী  ইমারত মোল্লা বলেন, বাবর মেম্বর ও খোরশেদ আলম আমাদের জোর করে বাগান থেকে বের করে দেয় এবং হুমকি দেয় যদি আমরা বাগানে আসি তাহলে জানে মেরে ফেলবে। আমরা বাগান ৯ বছরের জন্য লিজ নেই। প্রতি বছর ১৪ লাখ টাকা দরে। ইতোমধ্যে দুই বছর ভালোভাবে সমস্ত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু এ বছর বাগানে লোকসান হওয়ায় পুরো টাকা দিতে পারি নাই। ১৪ লাখ টাকার জন্য ১০ লাখ দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ লাখ টাকার জন্য তারা প্রায় আট হাজার আম গাছের ডালগুলো কেটে ফেলেছে।

অভিযুক্ত বাবর আলী মেম্বার মুঠোফোনে বলেন, আমরা ঢাকার কেরানীগঞ্জের হেকমত মোল্লার ফেলে ইমারত মোল্লাকে ৯ বছরের জন্য বাগান লিজ দেই। প্রতি বছর ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ২৮৫ টাকা দরে দেওয়ার কথা। সে কোনো বছরই ঠিকভাবে টাকা পরিশোধ করে নাই। তাই আমরা স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দিলে তারা পূর্বের কিছু বাক ও এ বছরের টাকাসহ মোট ২১ লাখ টাকা পরিশোধ করার কথা অঙ্গীকার করে। কিন্তু ইমারত মোল্লা ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করে বাকি ১১ লাখ টাকা এখনও পরিশোধ করে নাই। তারা আর এখন টাকা দিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। আমরা নিরুপায় হয়ে আমাদের বাগান আমরা নিয়ে নিয়েছি।

গাছ কাটার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘আর আম গাছ কাটার বিষয়? আম গাছ পরিচর্যার জন্য ডাল ছাটাই করা হয়েছে। সার দেওয়া হচ্ছে। কোন গাছ কেটে ফেলা হয় নাই। আমরা আমাদের বাগান পরিচর্যা করছি।’

নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এপি