পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের চেয়েও অনির্বাচিত পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির দলীয় জেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এখানে এতটাই লুটপাটের জায়গা তৈরি হয়েছে যে, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান না হয়ে অনেকেই পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হতে চান। পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে সদস্য হলে ২০ কোটি টাকা লুটপাট করবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো গঠন নিয়ে বিএনপির একটি অংশের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী থাকা সত্ত্বেও কোরামবাজি ও দলীয় প্রভাবের কারণে তারা কেউ স্থান পাননি।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রতি বছর বিশাল বরাদ্দ আসলেও নেই কোনো ভালো স্বাস্থ্য সেবা, নেই স্কুল কলেজ। তিনি অবিলম্বে পার্বত্য জেলা পরিষদ গুলোর নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি একসময় আওয়ামী লীগের কাছে যে পদ্ধতিতে নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার হয়েছিল। বর্তমানে তারাই সেই একই পদ্ধতি অবলম্বন করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে দৃশ্যগুলো ধীরে ধীরে দেখা যাচ্ছিল, বিএনপির সরকারের ক্ষেত্রে তা মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
বিএনপির দলীয়করণের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, বিভিন্ন সেক্টরে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় যারা এনসিপির রাজনীতি করছেন, তাদের নামেও মামলা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এই চর্চা যারা বিগত সময়ে করেছে, তাদের কী অবস্থা হয়েছে, তা এ দেশের জনগণ জানে। ফ্যাসিবাদবিরোধী যেসব সংগঠন আছে, তাদের যার যার রাজনীতি করতে দিন। জনগণই বেছে নেবে কোন দল করবে।’
সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম বলেন, জামায়াতের সঙ্গে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে এনসিপি রয়েছে এবং এ জোট ভেঙে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। একটি ফ্যাসিবাদী গ্রুপ জামায়াত-এনসিপি জোটকে নিয়ে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।’
আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, ‘ডিসেম্বরে আসা তো দূরের কথা, শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।’

