সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে ঘুষের শিকার হননি এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। দুর্নীতির এই নির্মম বাস্তবতাকে প্রকাশ্যে আনতে এবং নাগরিকদের সচেতন করতে সম্প্রতি চালু হয়েছে ‘ঘুষ.সাইট’ নামের একটি অভিনব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
বিদেশি একটি কনসেপ্ট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সাইফ কবির এবং শাহেদ শরীফ নামের দুই তরুণ উদ্যোক্তা ও বন্ধু সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থায়নে এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছেন। এর পেছনে কোনো বিদেশি ফান্ড বা এনজিওর অনুদান নেই, সাধারণ মানুষ চাইলে এতে স্বেচ্ছায় সহায়তা করতে পারেন।
চালুর মাত্র ৬ দিনেই প্ল্যাটফর্মটিতে অভাবনীয় সাড়া পাওয়া গেছে। এই ৬ দিনে মোট জমা পড়া অভিযোগের সংখ্যা ৬ হাজার ২৮৩টি এবং দাবিকৃত ঘুষের মোট পরিমাণ ২২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যানে সর্বোচ্চ ২৭১৪টি অভিযোগ এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে, যার পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগ। সবচেয়ে আশার কথা হলো, অভিযোগকারীদের অন্তত ২৩ শতাংশ মানুষ সাহসিকতার সঙ্গে ঘুষের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
উদ্যোক্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এটি কোনো আইনি তদন্ত সংস্থা বা দুর্নীতি দমন কমিশনের বিকল্প নয়। সাইটে প্রকাশিত প্রতিটি প্রতিবেদনের সঙ্গে ‘আনভেরিফায়েড’ বা যাচাই করা হয়নি কথাটি লেখা থাকে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো একটি উন্মুক্ত ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি করা, যাতে নাগরিকেরা কোনো সেবা নিতে যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পূর্বের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জেনে সতর্ক হতে পারেন।
অভিযোগকারীর পরিচয় নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। এখানে অভিযোগ পাঠাতে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলা, ই-মেইল বা ফোন নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির নাম, পদবি বা ফোন নম্বর দিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার কোনো সুযোগ নেই। কঠোর মডারেশন টিম প্রতিটি অভিযোগ যাচাই করে ব্যক্তিগত তথ্য বা নাম মুছে ফেলার পর তা লাইভ করে, কারণ উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিকে ছোট করা নয়, বরং পুরো খাতের সিস্টেমিক অনিয়ম তুলে ধরা।
মাত্র দুই মিনিটে আপনিও আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন। ব্রাউজার থেকে ghush.site লিংকে প্রবেশ করে কোনো সাইন-আপ বা লগইন ছাড়াই সরাসরি ‘অভিযোগ জানান’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, দাবিকৃত ঘুষের পরিমাণ এবং শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিল—এই তথ্যগুলো দিয়ে এবং কোনো ব্যক্তির নাম-পদবি ছাড়া সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিখে সাবমিট করতে হবে। মডারেশন শেষে তা সাইটে যুক্ত হয়ে যাবে।
উদ্যোক্তা সাইফ কবিরের মতে, নাগরিকদের সচেতন করে অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যানের সাহস জোগানোই এই প্ল্যাটফর্মের আসল সাফল্য।

