নতুন পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে সোমবার, অনুমোদন পেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৪:০৫

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। সেদিন অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আগামী সপ্তাহেই জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। অনুমোদন মিললে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা কত শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে, সে বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় এটি ঘোষণা করা হতে পারে।

এর আগে ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিয়েছে।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। প্রস্তাবিত কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং পরের বছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

ই-বুকের ‘নবম পে-স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শিরোনামের অংশে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় ১২ বছর পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ওই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা
এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস