নেপালে আকস্মিক বন্যার জন্য হিমবাহ ধসকে দায়ী করে চীনা দূতাবাসের বিবৃতি

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:২১

তিব্বত থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও চীনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং প্রাণহানির পেছনে বেইজিংয়ের কোনো ভূমিকা রয়েছে—এমন প্রশ্ন জোরালোভাবে নাকচ করেছে চীন। নেপালের চীন দূতাবাস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেপালের একটি উচ্চভূমির হিমবাহ ধসে পড়ার ফলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার রাতে নেপালে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিদেশি ও চীনা নাগরিকদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারে তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এর আগে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের চীনা অংশে ভূমিধস প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে পড়ার কারণে এই বিপদ তৈরি হয়েছে কি না এবং আগাম সতর্কতা দিয়ে প্রাণহানি কমানো সম্ভব ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

এর আগে বৃহস্পতিবার দেওয়া অপর এক বিবৃতিতে চীন দূতাবাস আগাম সতর্কতা না দেওয়ার কারণে প্রাণহানি ঘটেছে—এমন দাবিকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দেয়। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপাল প্রান্তে হিমবাহ ধস বা ভূমিকম্পের মতো ঘটনা ঘটে। এর ফলে সৃষ্ট বিশাল কাদার স্রোতে জিরং-রাসুয়া সীমান্ত অঞ্চলের নেপাল ও চীন—উভয় পাশেই ব্যাপক হতাহত ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। দুর্যোগের এই সময়ে একে অপরকে দোষারোপ না করে পারস্পরিক সহযোগিতাই জীবন বাঁচাতে পারে বলে মন্তব্য করেছে দূতাবাস।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে উত্তর নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে আকস্মিক এই বন্যা দেখা দেয় এবং তিব্বত সীমান্তের কাছে রসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। প্রবল কাদা, পাথর ও পানির স্রোতে বহু মানুষ ভেসে যায়। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের সন্ধানে যৌথ প্রচেষ্টা চলছে।

 
ইত্তেফাক/এএম