লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৪০

লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করেছে সরকার। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ইউনিটটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য সরবরাহকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সভায় পুলিশ সুপার, ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত আইজিপি ও আইজিপিসহ পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কৌশল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পুরস্কারের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী। হেভি ওয়েপনস বা ভারী অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তাকারী তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা দেওয়া হবে। পিস্তল, রিভলভার ও শটগান জাতীয় অস্ত্রের ক্ষেত্রে পুরস্কারের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুট হওয়া টিয়ারগ্যাস সেল এবং অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে।

তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে তথ্য সরবরাহকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। তার কথায়, পরিচয় গোপন না রাখলে সাধারণ মানুষ তথ্য দিতে এগিয়ে আসবে না।

সারাদেশে অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এসব কার্যক্রমে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যেসব কর্মকর্তা এই সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সেই সময়সীমা এখনো শেষ হয়নি।

সম্প্রতি বাতিল হওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলো বর্তমানে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সীমান্ত অতিক্রম করে কিছু অস্ত্র প্রতিবেশী দেশে পাচারের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্য দেশের ভূখণ্ডে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ অভিযান চালাতে পারে না। তবে দেশের অভ্যন্তরে থাকা সব অস্ত্র উদ্ধার করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে নতুন কিছু কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে, যা শিগগিরই মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এই কৌশলগুলো এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

ইত্তেফাক/এনএন