ঘুস কেলেঙ্কারিতে ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্টের ৫ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩৪

ঘুস গ্রহণের অভিযোগে ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। দেশটির সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র কোকা কোদো সিনক্লেয়ার নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত দুর্নীতির মামলায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। খবর আল জাজিরার।

৭৩ বছর বয়সি মোরেনোকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের মার্চে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তে মোরেনো, তার পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় ও চীনা ব্যবসায়ীদের একটি কথিত দুর্নীতিচক্রের সঙ্গে এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যোগসূত্র পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করা হয়।

কোকা কোদো সিনক্লেয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০১৬ সালে উৎপাদনে যায়। তবে চালু হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রটিতে বিভিন্ন কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আদালতের প্রধান বিচারক ম্যানুয়েল কাবরেরা বলেন, মোরেনোর কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মকর্তার ঘুস গ্রহণের অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের দাবি, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভুয়া পরামর্শক চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি ৬১ লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছে।

মোরেনোর স্ত্রী ও মেয়ে এবং তার দুই ভাই ও তাদের স্ত্রীদেরও এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কুইটোতে চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুংগুওকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঘুষের অর্থ বিদেশি ব্যাংক হিসাব ও করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন দেশে থাকা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেই অর্থ মোরেনোর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে পৌঁছায়।

প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে মোরেনো ও তার ঘনিষ্ঠ স্বজনেরা ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছিলেন।

তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন মোরেনো। তার দাবি, প্রকল্পটির কোনো চুক্তি স্বাক্ষর বা তদারকির সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না।

আদালতে শুনানির সময় মোরেনো বলেন, ‘আপনারা ভুল জায়গায় খুঁজছেন। যারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং যারা নিয়মিত ঘুষ দাবি করতেন, তাদের দিকে নজর দিন।’

উল্লেখ্য, মোরেনো ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। মামলার বিচার মোকাবিলার জন্য তিনি প্যারাগুয়ে থেকে দেশে ফিরে আসেন।

ইত্তেফাক/এনএ