লালদিয়া টার্মিনাল হবে বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব: অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৫৯

চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক লজিস্টিকস ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, লালদিয়া টার্মিনাল শুধু চীনের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। আধুনিক বন্দর অবকাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের জন্য একটি কার্যকর প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টায় পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন (গ্রাউন্ড ব্রেকিং) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, লালদিয়া টার্মিনাল একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে বিশ্বের সেরা লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান, আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো, উন্নত বন্দর ও আধুনিক শহর প্রয়োজন। লালদিয়া টার্মিনালের মতো প্রকল্প এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশের অর্থনীতিতে বন্দর ও বাণিজ্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাণিজ্য খাতকে ঘিরে পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও অনেকাংশে বন্দরের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতকে নেতৃত্বের ভূমিকায় আনতে হবে। সরকারের কাজ হবে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালও এ ধরনের অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সরকার ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড থেকে সরে গিয়ে এসব ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করছে।

লালদিয়া টার্মিনালের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু বলেন, প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সহযোগিতা সময়মতো নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সরকার সহযোগিতাপূর্ণ অবস্থানে থাকবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কল্যাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, কর্মীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও নজর দিতে হবে। কর্মী, প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব।

বন্দর ও বৈদেশিক বাণিজ্যের সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে শুধু লজিস্টিকস হাব হিসেবে নয়, একটি কার্যকর ও উন্মুক্ত বাজার হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 
ইত্তেফাক/এমএএম