শিক্ষার্থী নন, জাবিপ্রবি ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্বে কলেজশিক্ষক, তৃণমূলে ক্ষোভ

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২৫

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ। তবে বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী নন, পেশায় একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক। ছাত্রত্বহীন একজনকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো নিয়ে সংগঠনটির ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকারও অভিযোগ উঠেছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের তৎকালীন আহ্বায়ক শাকিল আহমেদকে সম্প্রতি বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় সংসদ। শূন্য পদ পূরণে গত ২২ আগস্ট রাতে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ৩৭ সদস্যের এই কমিটি অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবদুল্লাহ আল মাসুদ জাবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে তার ছাত্রত্ব নেই। তিনি জামালপুর শহরের উইজডম সেন্ট্রাল কলেজে উচ্চতর গণিত বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে তাকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি ও মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আজমের সঙ্গেও তার একাধিক ছবি প্রকাশ্যে এসেছে।

এ বিষয়ে জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আদিবা হক মিলা হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,

একজন অছাত্র এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শীর্ষ পদে বসানো সত্যিই কষ্টের। তিনি এমন একটি কলেজে শিক্ষকতা করেন, যার মালিক জামায়াতের একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী।

সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এ কে এম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। তিনি বলেন, তিনি যে কলেজে চাকরি করেন, সেই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার যে ছবিগুলো ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আগামী মাসে মাস্টার্সে ভর্তি হবেন জানিয়ে মাসুদ আরও বলেন, ছাত্রদলে বিবাহিত বা অবিবাহিত হওয়া কোনো বাধা নয় এবং তিনি নিজে বিবাহিত।

সার্বিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি হাফিজুর রহমান সোহান জানান, তারা অভিযোগগুলো শুনেছেন এবং বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছেন। তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এপি