সবার সঙ্গে সম্পর্কের দরজা খোলা রেখে বাণিজ্যিক-সামরিক চুক্তিতে যেতে হবে: আসিফ মাহমুদ

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৩৮

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বাংলাদেশের অবশ্যই সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার যে দরজাটা, সেটা খোলা রেখেই যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক কিংবা সামরিক চুক্তিতে যাওয়া প্রয়োজন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। 

আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এমন হতে হবে, যাতে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে গিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

দেশের বর্তমান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও দেশের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, অতিরিক্ত দাম ও বিভিন্ন ভূতুড়ে বিল পরিশোধের পরও নাগরিকরা পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এতে দেশের পরিস্থিতি ২০০৫ সালের আগের সময়ের মতো সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।

প্রবাসী শ্রমবাজারে অনিয়ম এবং বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সৌদি আরবের বিমান টিকিটের দাম প্রায় ৩৫০ ডলার বা প্রায় ৪০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে একই টিকিটের দাম সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে ৬০–৭০ হাজার টাকা, এমনকি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন খাতে নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে প্রায় ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে যা কোনোভাবেই একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা ন্যায্য পরিস্থিতি নয়। 

প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার ব্যয় কমাতে এবং শ্রমবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ১১ দলীয় জোট ঘোষিত লংমার্চ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক শক্তি মূলত তাদের প্রতিবাদের সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করে।

তিনি বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে আমরা মূলত জনগণের কষ্টগুলো তুলে ধরতে চাই। এটি আমাদের সংস্কারের প্রতিশ্রুতির অংশই নয়, বরং বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ।

ইত্তেফাক/পিএস