জবানবন্দিতে পুলিশ কর্মকর্তা

ছাত্রদল নেতাকে ক্রসফায়ার দেওয়ায় পুরস্কার পান সাবেক দুই এসআই

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩০

২০১৫ সালে বরিশালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় তৎকালীন উজিরপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিনকে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল বলে শুনেছেন মামলার সাক্ষী ও উজিরপুর থানার তৎকালীন সেকেন্ড অফিসার আলী আহম্মেদ।

সোমবার (৩১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।

ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী হিসেবে এই জবানবন্দি দেন আলী আহম্মেদ। তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উজিরপুর থানায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বরিশাল মহানগর সিআইডিতে পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন।

জবানবন্দিতে আলী আহম্মেদ জানান, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়। এর আগের দিন অর্থাৎ ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ উজিরপুর থানায় এসে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর ওসির নির্দেশে তিনি অন্য থানায় কর্মরত এএসআই জসিম উদ্দিন ও এএসআই মাহাবুলকে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য কমান্ড সার্টিফিকেট (সিসি) দেন। এসপির নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানেই তারা ওই ডিউটি করবেন বলে জানানো হয়েছিল। দাপ্তরিক কাজ শেষে তিনি বাসায় চলে যান। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে টিভিতে দেখেন, পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া থানায় পুলিশের সঙ্গে তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওই দুজন নিহত হয়েছেন।

ঘটনার দিন বিকেলে থানায় গেলে ওসি তাকে ডেকে এএসআই মাহাবুল ও জসিমকে পরবর্তী ১০ দিন কোনো ডিউটি না দেওয়ার নির্দেশ দেন। আলী আহম্মেদ বলেন, পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের মধ্যে তখন কানাঘুষা চলতে থাকে যে আগৈলঝাড়ার ওই ক্রসফায়ারের ঘটনা এই দুই এএসআই ঘটিয়েছেন।

১০ দিন পর থানায় ফিরে ওই দুই এএসআইয়ের কথাবার্তা ও চালচলন অসংলগ্ন ও অস্বাভাবিক ঠেকেছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি। পরবর্তীতে তারা আরও ১০ থেকে ১৫ দিনের ছুটির আবেদন করলে ওসির নির্দেশে তাঁদের আরও কিছুদিন ডিউটি থেকে বিরত রাখা হয়। আলী আহম্মেদ আরও জানান, তিনি শুনেছেন ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য এএসআই মাহাবুল ও জসিম উদ্দিনকে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।

এএসআই মাহাবুল ও জসিম অত্যন্ত বেপরোয়া ছিলেন উল্লেখ করে সাক্ষী বলেন, তাদের কোনো দায়িত্ব দিলে তারা তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও এসপির প্রভাব দেখিয়ে অন্য চলে যেতেন এবং ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতেন না। তাদের ভয়ে অন্য কর্মকর্তা ও ফোর্সরাও সঠিকভাবে কথা বলতে ভয় পেতেন। তৎকালীন সরকারের আমলে বরিশাল জেলায় আরও চার থেকে পাঁচটি এবং সারা দেশে অসংখ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোট চারজন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি হলেন উজিরপুর থানার তৎকালীন এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।

সূত্র: প্রথম আলো

ইত্তেফাক/এসএ