একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের স্থিতি এবং মেয়াদি আমানতের শুধু আসল টাকা এককালীন উত্তোলন করতে পারবেন গ্রাহকরা, মূল টাকার সঙ্গে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার জারি করা হয়েছে। সেখানে এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫’-এর আওতায় কোনো অ-প্রাতিষ্ঠানিক অর্থাৎ সাধারণ ও ব্যক্তি শ্রেণির আমানতকারী তার চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের স্থিতি এবং মেয়াদি হিসাবের শুধু আসল অর্থ উত্তোলন করতে চাইলে হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংককে তা পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ, গ্রাহক নিজস্ব তহবিল থেকে হস্তান্তরকারী ব্যাংকে যে অর্থ জমা রেখেছিলেন, সেই মূল টাকা তুলতে পারবেন। তবে ওই আমানতের বিপরীতে প্রাপ্য বা অর্জিত মুনাফা এ সুবিধার আওতায় পাওয়া যাবে না।
তবে এ সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। কোনো আমানতকারী মূল টাকা উত্তোলনের সুবিধা নিলে সেটিকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আমানতকারীর পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। পরবর্তী সময়ে ওই হিসাবের বিপরীতে আর কোনো দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।
এ ছাড়া আমানতের টাকা পরিশোধের আগে হস্তান্তরকারী ব্যাংকগুলোর কাছে সংশ্লিষ্ট আমানতকারীর কোনো দায় বা ঋণ থাকলে তা আমানতের অর্থ থেকে সমন্বয় করতে হবে। অর্থাৎ, গ্রাহকের কোনো বকেয়া দায় থাকলে তা বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ তাকে পরিশোধ করা হবে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা টাকা উত্তোলনের জন্য ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই শেষে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতের সম্পূর্ণ মূল টাকা এককালীন উত্তোলন বা নগদায়ন শুরু হবে।
ব্যাংকটির আল-ওয়াদিয়া চলতি, মুদারাবা সঞ্চয়ী, এমটিডিআর ও ডিপিএসসহ বিভিন্ন হিসাব থেকে গ্রাহকেরা মূল টাকা তুলতে পারবেন। তবে হিসাব বন্ধ না করে চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে।
এদিকে, টাকা পরিশোধের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে ১ সেপ্টেম্বরকে বিশেষ দিবস হিসেবে পালনের নির্দেশ দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এদিন শাখা ও উপশাখাগুলো সুন্দরভাবে সাজানো, কর্মকর্তাদের মার্জিত ও নির্ধারিত পোশাকে উপস্থিত থাকা এবং গ্রাহকদের ফুল বা উপহার দিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ নাগরিক, নারী ও প্রতিবন্ধী গ্রাহকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সেবা দিতে বলা হয়েছে। শাখাগুলোতে পরিচ্ছন্ন ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি গ্রাহকসেবার মান ও সন্তুষ্টির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

