আগস্টে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা বেড়েছে: এমএসএফ

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১৪

দেশে গত আগস্ট মাসে সামগ্রিক অপরাধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে না বাড়লেও অপরাধ সংঘটনের ধরন ও নিষ্ঠুরতায় চরম অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে নারী ও শিশু হত্যা, দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা আগের মাসের তুলনায় আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) আগস্ট মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

আজ সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত জুলাই মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩০৬টি, যা আগস্টে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৭টিতে। এর মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের মতো মারাত্মক যৌন সহিংসতার বৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বেশি। জুলাই মাসে যেখানে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ছিল ৭টি, আগস্টে তা ৭২ শতাংশ বেড়ে ১২টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ৩টি থেকে বেড়ে ৫টিতে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আগস্ট মাসের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নারী ও শিশু হত্যাকাণ্ডের উল্লম্ফনকে। এক মাসেই ৯১ জন নারী ও শিশু হত্যার শিকার হয়েছেন, যা জুলাইয়ের ৫২ জনের তুলনায় ৭৫ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি আত্মহত্যার ঘটনাও ২৮ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে আলোচ্য সময়ে যৌন হয়রানির ঘটনা আগের মাসের মতোই ২২টিতে অপরিবর্তিত ছিল এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও একটি মারাত্মক দিক হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ের বেআইনি সালিসের বিস্তারকে দায়ী করেছে এমএসএফ। আগস্ট মাসে এমন অন্তত চারটি ঘটনার নজির পাওয়া গেছে, যেখানে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ভুক্তভোগীর জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া, শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জরিমানা ও বেত্রাঘাত এবং শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা অর্থের বিনিময়ে মীমাংসা করার চেষ্টা হয়েছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের সালিসি ব্যবস্থা কেবল ন্যায়বিচারের পথকেই রুদ্ধ করে না, বরং অপরাধীদেরকে পরোক্ষভাবে দায়মুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষাও জোগায়।

প্রতিবেদনে অন্যান্য অপরাধের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, মাদকসংশ্লিষ্ট ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা জুলাইয়ের ৯৩ জন থেকে আগস্টে ১২৯ শতাংশ বেড়ে ২১৩ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়াকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সহিংসতার প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে একজন শিক্ষককে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এমএসএফ তাদের পর্যবেক্ষণে জোর দিয়ে জানিয়েছে, সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নে কেবল অপরাধের মোট সংখ্যা গোনা যথেষ্ট নয়; বরং অপরাধ কতটা নির্মম রূপ নিচ্ছে এবং ঘটনার পর অপরাধীদের শাস্তি ও ন্যায়বিচার কতটুকু নিশ্চিত হচ্ছে—সেটিই এখন মূল বিষয়।

ইত্তেফাক/এনএন