নৌকা ভ্রমণের নামে চলছে মাদক সেবনের আসর

আলোকসজ্জায় সজ্জিত থাকে এসব যান

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা, সুবর্ণখালী ও ঝিনাই নদীসহ বিভিন্ন নদীতে নৌকায় বিনোদনের নামে অবাধে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ এবং মাদক সেবনের মহোৎসব। সন্ধ্যা নামলেই নদীগুলোতে শুরু হয় এসব অপকর্ম, যা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, রংবেরঙের আলোকসজ্জায় সজ্জিত নৌকাগুলোতে উঠতি বয়সের যুবকরা মেয়েদের নিয়ে অশালীন নৃত্য ও অশ্লীলতায় লিপ্ত হয় । পাশাপাশি চলে মাদক ও মদ্যপান ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলা বিভিন্ন উপজেলার একাধিক স্থান থেকে সাধারণ পর্যটকদের মতো নৌকা ভাড়া নিয়ে নদী বা নৌকা ভ্রমণে বের হয়ে সরিষাবাড়ী দিয়ে য়াপুর ও সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধ যায়। সন্ধ্যার পর এসব নৌকায় পুরোই ভিন্ন রূপ নেয়। রংবেরঙের আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়ে উঠে নৌকাগুলো। অতিরিক্ত গতির ইঞ্জিন চালিত নৌকাগুলোতে উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্সে গান বাজিয়ে চলে মেয়ে নিয়ে অশ্লীল নাচ ও মাদক সেবনের আসর। নদীপথের নির্জনতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির ঘাটতির সুযোগ নিয়ে করা হচ্ছে এসব কর্মকাণ্ড। অনেক ক্ষেত্রে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ এই চক্রের কারণে বিপথগামী হচ্ছে।

পোগলদিঘা গ্রামের আজাহার আলী, দামোদরপুর গ্রামের মোতালেব মিয়া, জগন্নাথগঞ্জ পুরাতন ঘাটের মোজাফফর আলী, পিংনা বাজার ঘাট এলাকার আলামিনসহ একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নদীমাতৃক এই জনপদের ঐতিহ্যবাহী নৌকাভ্রমণ ও বিনোদন মাধ্যমটি আজ এই অবক্ষয়ের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। সন্ধ্যার পর নদীর তীরবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ ও পরিবার নিয়ে চলাচল করাও মুশকিল হয়ে পড়েছে।

এদিকে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা একাধিক নারী বলেন, 'আমাদের বাড়ি নদীর তীরবর্তী হওয়ার কারণে আমরা নদীতে গোসল করি। গোসল করার সময় পিকনিকের নৌকা থেকে আমাদেরকে নানা ভাবে বাজে মন্তব্য ও খারাপ অঙ্গভঙ্গি করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয়দের মনে তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তির সৃষ্টি হয়েছে। নদীভিত্তিক এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কঠোর নজরদারি কামনা করেছেন সচেতন নাগরিকসমাজ। নদীমাতৃক এলাকায় সুস্থ বিনোদন পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং যুবসমাজকে রক্ষা করতে দ্রুত ভ্ৰাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও অবৈধ নৌ-আসর বন্ধে জোরালো অভিযানের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জামালপুর বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগের বিষয়ে একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিদিন অভিযান করা সম্ভব হয় না । যদি কেও সুনির্দিষ্ট ভাবে অভিযোগ ও স্থানের তথ্য দেয় তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ইত্তেফাক/এনএন