আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। সোমবার (৩০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্টে জাতীয় দলকে বিদায় বলেছেন তিনি। এতে দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এলএমটেন।
মেসির অবসরের সিদ্ধান্ত হতবাক করে দিয়েছে ভক্তদের। সেইসঙ্গে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পরিকল্পনাও বদলে দিয়েছে, যারা আসন্ন ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতি নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করছিল।
পরবর্তী আন্তর্জাতিক উইন্ডো ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। জাতীয় দলের সামনে চারটি প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ। আর্জেন্টিনা চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু মেসির অবসরে সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল।
ধারণা করা হচ্ছিল, লিওনেল স্কালোনির দল অন্তত একটি ম্যাচ দেশে খেলবে। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের নানা ঘটনার পর তাদের ওপর আরোপিত ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, আর্জেন্টিনাকে পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচ খেলতে হবে সীমিত দর্শক নিয়ে। প্রথমটি স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচের শাস্তি স্থগিত রাখা হয়েছে।
আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, তবুও লিজেন্ডারি অধিনায়ককে আর্জেন্টিনায় দর্শকদের সামনে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সবকিছু নির্ভর করছে মেসির ইচ্ছার ওপরে। এখনও এএফএ কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে এটুকু নিশ্চিত, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আর্জেন্টিনার তাদের মেসি পরবর্তী যুগ শুরু করতে যাচ্ছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি অবসরের বার্তায় লিখেছেন, ‘ফাইনালে খেলার পর এতগুলো দিন কেটে যাওয়ার পর এবং দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর, আমি সবাইকে জানাতে চাই যে আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই ফুটবলার আরও লেখেন, ‘এটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক একটি সিদ্ধান্ত ছিল এবং এখনও আমার হৃদয়ের গভীরে আঘাত করছে, তবে আমি অনুধাবন করতে পারছি যে উপযুক্ত সময় এসে গেছে। আমি আপনাদের কসম খেয়ে বলছি, আমি সবসময় আমার সর্বস্ব দিয়ে খেলেছি। কেবল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নয় যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, বরং তার আগের দিনগুলোতেও। আমি সবসময় লড়াই করেছি এবং এই জার্সিটার জন্য আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, যাতে ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি এবং একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত অনুভব করাতে পারি।’

