স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসিকে জামায়াতের ৯ দাবি

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:১৪

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সাথে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে এ কথা জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখা, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিল করা।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নিয়োগ দেওয়া প্রশাসকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি। তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেও যেন তারা এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন, সে বিষয়ে বিধান করার দাবি জানানো হয়েছে।

নির্বাচনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিদের প্রচারণায় অংশগ্রহণ বন্ধে কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছে জামায়াত।

দলটির অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকারি অর্থ ও উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যবহার করে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এ কারণে প্রশাসকদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী অযোগ্যতার বিধান চেয়েছে তারা।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা বিএনপির নির্বাচনবিষয়ক সাব-কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা এই নিয়োগ দ্রুত বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিক্ষকরা স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতি ও ভোটাধিকার প্রয়োগে অংশ নিয়ে আসছেন। এমনকি সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা অংশ নিয়েছেন।

তার মতে, শুধু স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকদের সমানাধিকারের নীতির পরিপন্থি এবং এটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য নির্বাচন কমিশনকে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বিষয়টি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারীদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জামায়াতের দাবি, কোনো সংগঠনের রাজনীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলে ওই সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়াও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ। তবে সাধারণ সমর্থকদের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানায়নি দলটি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, কিছু বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের দাবির সঙ্গে একমত হলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে কমিশন নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছে। তবে জনদাবি ও নাগরিক সমাজের পর্যালোচনার মুখে কমিশন শেষ পর্যন্ত দাবিগুলো মেনে নেবে বলে তারা আশা করছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণের ধরন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে না। আগ্রহী প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্য প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, ওই ঐক্য কেবল জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক। স্থানীয় নির্বাচনে শরিক দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নেবে।

ইত্তেফাক/এসজেএস