টানা ভারী বৃষ্টিপাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এবং সংলগ্ন রাওয়ালপিন্ডি শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মুষলধারে এই বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লেহ নুল্লা খালের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে কাটারিয়ানে ২৯ ফুট এবং গাওয়ালমান্ডিতে ২৩ দশমিক ৫ ফুটে উঠেছে। খাল অববাহিকায় তীব্র বৃষ্টির ফলে এই দুই এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। এছাড়া রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে 'রেসকিউ ১১২২'। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঘরের ভেতরে আটকা পড়াদের উদ্ধারে কাজ চলছে।
মঙ্গলবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ পানির পতন হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শামসাবাদে সর্বোচ্চ ২০১ মিলিমিটার, নিউ কাটারিয়ানে ১৮৬ মিলিমিটার, গোলরায় ১৫৭ মিলিমিটার এবং এইচ-৮/২ এলাকায় ১৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সাইদপুরে ১০৪, পির ওয়াধাইয়ে ৮৬, কাচেরিতে ৭৪ এবং বোকরায় ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় ইসলামাবাদের ডেপুটি কমিশনার ইরফান নওয়াজ মেমন জানিয়েছেন, রাওয়াল বাঁধের পানির উচ্চতা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় দুপুর ২টায় বাঁধের স্পিলওয়ে খুলে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে নাগরিকদের নালা ও জলপ্রবাহের পথের কাছাকাছি না যাওয়ার কড়া সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ইসলামাবাদের বিভিন্ন প্রধান সড়কে তীব্র যানজট ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ চালকদের অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে চলাচল করতে, গাড়ির গতি কমাতে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে অনুরোধ করেছে। দৃষ্টিসীমা কমে গেলে ফগ লাইট জ্বালিয়ে নির্দিষ্ট লেন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক হামিদ মীর ও সাবেক জলবায়ুমন্ত্রী শেরি রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার বেশ কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, ইসলামাবাদ এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় বেশ কিছু গাড়ি পানিতে আটকা পড়েছে এবং কিছু গাড়ি অর্ধ ডুবে গেছে।
জলবায়ুমন্ত্রী জানান, সোমবার রাতের পর থেকে এই দুই শহরের আবহাওয়া চরম বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের উত্তরাঞ্চলে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাওয়ালপিন্ডির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন এবং নাগরিকদের অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

