দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড় আরও ভারী হয়েছে। চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে মোট খেলাপি ঋণ বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। ফলে তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। মার্চ শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ ছিল খেলাপি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সে হিসেবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা।
২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭৬ হাজার ১২৭ কোটি টাকা।
ব্যাংক খাতে ঋণের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের ঋণ অনাদায়ী হওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের পরও খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকায় ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমাতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিলেও এখনো এর দৃশ্যমান প্রভাব পড়েনি। বরং জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

