যমুনার চরাঞ্চলে তৃণভূমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দৌরাত্ম্য, বিপাকে বাথানমালিকরা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২৩

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী যমুনা নদীর বিশাল চরাঞ্চলে সরকারি খাসজমিতে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা কাশবনের তৃণভূমি নিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে মাদারগঞ্জের শত শত বাথানমালিক ও রাখাল অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা না দিলে বাথানমালিক ও রাখালদের ওপর জুলুম-নির্যাতন, গরু-মহিষ লুট এবং অপহরণের মতো ঘটনা ঘটছে। তৃণভূমির দখলদারত্ব ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এমনকি এসব বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

কয়েক দিন আগে মাদারগঞ্জের পার্শ্ববর্তী বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার পাকুরিয়া চরে কাশবনের দখলদারত্বকে কেন্দ্র করে মুসলেমউদ্দীন নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরাঞ্চলের তৃণভূমি দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলার একাধিক গরু-মহিষের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিবছর মাদারগঞ্জের প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার গরু-মহিষ যমুনার চরাঞ্চলে বাথানে নেওয়া হয়। এসব বাথানে শত শত রাখাল অবস্থান করেন। কিন্তু জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা এবং আশপাশের কয়েকটি উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে তৃণভূমির দখলকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির লোক চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা না দিলে রাখাল অপহরণ এবং গরু-মহিষ লুটের ঘটনা ঘটছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

তারা আরও জানান, কয়েক দিন আগে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের চর ঘাঘুয়া এলাকা থেকে মাদারগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন মহিষমালিকের একটি বাথান থেকে চার রাখালকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করা হয়। পরে কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে পাবনার রূপপুর এলাকা থেকে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।

সম্প্রতি মাদারগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম রফিকুল ইসলাম তৃণভূমি নিয়ে বিরোধ, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধে একটি বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে তিনি জানান, সরকারি খাসজমির তৃণভূমি থেকে চাঁদা আদায় ও সিন্ডিকেটের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। অচিরেই এসব চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ ও সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় গরু-মহিষের মালিক ও বাথানমালিকরা যমুনার চরাঞ্চলের সরকারি খাসজমির তৃণভূমিতে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি