তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, নারাজ বাদীপক্ষ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৩৬

ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির মামলায় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)। তবে এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছেন বাদীপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে সানায়ার পক্ষে আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় রনি নারাজি আবেদন জমা দেন। আইনজীবী জানান, আদালত বাদী ও তিন সাক্ষীকে আগামী ২০ অক্টোবর হাজির হতে বলেছেন। ওইদিন নারাজি আবেদনের ওপর শুনানি হবে।

২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সানায়া চৌধুরী। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।

শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তিশা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন সানায়া। পরে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর মেসেঞ্জারে মামলা করা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

পিবিআইয়ের এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম গত ২৫ মে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিশা তার সাবেক চালকের মাধ্যমে শাড়িটি নিয়েছিলেন। দুই পক্ষের মেসেঞ্জার কথোপকথন পর্যালোচনা করে পিবিআই জানায়, শাড়ি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সানায়া বার্তা পাঠালেও তিশা সেটি দেখেননি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর শাড়িটির ছবি পাঠানোর পর তিশা জানান, বিষয়টি তার মনে নেই। তিনি খুঁজে দেখে জানাবেন বলেও জানান। তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান। পরে মামলার বিষয়টি জানার পর তিশা ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান।

পিবিআই বলেছে, শাড়িটি ফেরত পাঠানোয় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে মেসেজের শেষাংশে শাড়ি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া এবং সানায়ার সুন্দর জীবন কামনা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হুমকির অভিযোগেরও প্রমাণ মেলেনি।

তবে বাদীপক্ষের দাবি, তদন্তের সময় হুমকির অডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ দেওয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ না করে নারাজি আবেদন করা হয়েছে।

শাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় মামলা। এর আগে অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র কাছ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেওয়া এবং প্রচার ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। পরে আদালতে হাজির হয়ে গত ১৩ আগস্ট জামিন পান তিশা।

 

ইত্তেফাক/এসএ