চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীদের ভ্যাকসিন এন্টিভেনম কেনার ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ। এ বিষয়ে গত ৩০ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ হয়।
অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বদলী হয়ে যাবার ৬ মাস পর এমাসের ১ তারিখ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছেংগারচর বাজার শাখার একাউন্টে ১ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা জমা। এই বিষয়টিও ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইনে পরপর দুটি সংবাদ প্রকাশের পর চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান এই বিষয়টির অধিকতর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ৩ সেপ্টেম্বরই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিন কে দায়িত্ব দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। আর বিষয়টি নিশ্চিত করেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি।
এ বিষয়ে উপজেলা সুধী সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধির সাথে কথা হলে তারা জানান, মতলবের কর্মস্থল থেকে বদলি হয়ে যাবার ৬ মাস পর দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইনে সংবাদ প্রচারের পর অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান ১ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার মধ্য দিয়ে টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সাপে কাটা রোগীদের জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম নামক গুরুত্বপূর্ণ এই ভ্যাকসিনটি চরাঞ্চল সমৃদ্ধ ও সাপপ্রবন মতলব উত্তর উপজেলার সাধারণ মানুষদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা প্রশাসনের বরাদ্দকৃত সেই ৩ লক্ষ টাকা একজন চিকিৎসকের আত্মসাৎ করার বিষয়টি খুবই নেক্কারজনক। দুর্নীতিগ্রস্থ এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় সাপে কাটা ২ শতাধিক রোগী প্রতিবছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সাপে কাটা রোগীদের ভ্যাকসিন অ্যান্টিভেনম চাহিদার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ খুবই সামান্য।
বিষয়টি নিয়ে কথা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাশ বলেন, ঘটনাটি আমাদের জন্য সত্যিই বিব্রতকর ও লজ্জা জনক।

