মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রি করে পাওয়া টাকা সঙ্গে নিয়ে জামালপুর থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন ইসমাইল হোসেন (৫০)। কিন্তু বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার আগেই তার সেই যাত্রা থেমে যায়।
রাজধানীর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে মুখে স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা, মোবাইল ফোন ও বাজারের ব্যাগ পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার পর মরদেহটি উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত মো. ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি ডেল্টা স্পিনিং মিলে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। ৯ মাস আগে অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে দেন। পরে স্ত্রী, দুই সন্তান ও পুত্রবধূকে নিয়ে কিছুদিন কাশিমপুরে ছিলেন। গত চার মাস ধরে তিনি গ্রামের বাড়িতেই ছিলেন। তবে তার স্ত্রী, মেয়ে, ও ছেলে পরিবারসহ গাজীপুরে থাকতেন।
নিহতের ছেলে হাসান বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বাবা আমাকে ফোন করে জানান, সকালে ঢাকায় পৌঁছাবেন। প্রথমে তার গাজীপুরের জিরানীতে আসার কথা ছিল। সেখানে গিয়ে বাবাকে অনেকবার ফোন করলেও ফোন বন্ধ পাই। পরে বনানী থানা থেকে গ্রামের বাড়ির পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা বাবার মৃত্যুর খবর পাই। বাবার পরনে শুধু শার্ট ও লুঙ্গি ছিল। কিন্তু তার সঙ্গে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা, একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন ফোন এবং বাজারের ব্যাগ—যার কিছুই পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, ছোট মেয়ে শারমিনের বিয়ের কথা-বার্তা চূড়ান্ত করতেই তিনি ঢাকায় আসছিলেন। মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে সম্প্রতি তিনি ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। সেই টাকার মধ্যে ২ লাখ টাকার ঋণ শোধ ও গ্রামে ঘর তৈরি বাবদ কিছু খরচ করে অবশিষ্ট নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে ইসমাইলের প্রথমে জিরানীতে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে তার ছেলে হাসান অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু বাবার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বনানী থানা পুলিশ জামালপুরের গ্রামের বাড়ির পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করলে পরিবারের সদস্যরা ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন।
বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) নজরুল ইসলাম তালুকদার জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি মলম পার্টি বা অজ্ঞান পার্টির কাজ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়া টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

