বিদ্যুৎ–সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ নিয়ে একটি প্ল্যান (পরিকল্পনা) চেয়েছিলেন, সেই প্ল্যান দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু এরপর আর কোনো সাড়া মেলেনি, সমস্যারও সমাধান হয়নি।
১১–দলীয় জোটের লংমার্চে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। বক্তব্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেন, বর্তমান সরকার ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় আসার পর তারা প্রথমে জুলাই সনদের সঙ্গে ‘বেইমানি’ করেছে।
সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওনারা বলছে “ইউ হ্যাভ আ প্ল্যান।” আমরা কিন্তু এটা বলি নাই। এখন বিরোধীদের বলে আপনারা প্ল্যান দেন। তাইলে আপনারটা (প্ল্যান) শেষ হয়ে গেছে নাকি। সারেন্ডার করেন যে “আমরা যে প্ল্যান নিয়ে এসেছিলাম, সেটা ব্যর্থ। এখন আপনারা আমাদের সাহায্য করেন।” অবশ্যই বিরোধী দলের দায়িত্ব আছে। আমরা গ্রহণ করব এবং সামনে এগিয়ে যাব।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মহোদয় একদিন চেয়েছিলেন, “একটা প্ল্যান দেন, শুধু বিদ্যুতের ব্যাপারে”। আমরা প্ল্যান দিয়েছি। এখন আর কিছু বলেন না উনি। আমরা আশা করেছিলাম প্ল্যান দেওয়ার পরে সমস্যার সমাধান হবে, বন্ধুগণ হয় নাই। একটারও হবে না। কারণ, তারা প্রতারণা নিয়ে সরকার গঠন করে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে।’
‘সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা কেন’
পথসভায় তারেক রহমান ও সরকারকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার গাজীপুরের তরুণ সিফাত আবদুল্লাহকে নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সিফাত পড়ার টেবিলে বসে ছিলেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন।
সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী মামলা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির। অবিলম্বে সিফাতকে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের নেতারা।
এর আগে শনিবার সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়। লংমার্চটি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা করা হচ্ছে।
১১–দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

