দূষণে ভরা একটি নদী একাই পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন ভারতের ২১ বছর বয়সী তরুণ সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী। ‘বিট্টু তাবাহি’ নামে পরিচিত এই তরুণের কাজ নজর কেড়েছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বোয়ান স্লাটের। তার কাজের প্রশংসা করে সুরেন্দ্রকে নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার আজনার নদী দীর্ঘদিন ধরে দূষণে জর্জরিত ছিল। নদীটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন সুরেন্দ্র। একাই নদী পরিষ্কারের কাজ শুরু করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেন।
সুরেন্দ্রের এই উদ্যোগের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নজরে আসে বোয়ান স্লাটের। তরুণটির কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’-এ কাজ করার আমন্ত্রণ জানান তিনি।
নদী পরিষ্কারের মতো পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগের মাধ্যমে সুরেন্দ্র এখন শুধু নিজ এলাকাতেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, আজনার নদীর একটি অংশ প্লাস্টিকের বর্জ্য, শেওলা, কাদা ও নানা ধরনের আবর্জনায় ভরে গিয়েছিল। নদীর পাশে থাকা একটি স্থানীয় মন্দিরের আশপাশের পরিস্থিতিও ছিল অত্যন্ত নোংরা। দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর ভোগান্তি হচ্ছিল।
এ অবস্থায় সরকারি কোনো উদ্যোগের অপেক্ষা না করে নিজেই নদী পরিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন সুরেন্দ্র। ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে নদী পরিষ্কারের কাজে হাত দেন তিনি।
শুরুতে কয়েকজন বন্ধু তাকে সহযোগিতা করলেও পরে কাজটি প্রায় একাই চালিয়ে যেতে হয় তাকে। সাধারণ কিছু সরঞ্জাম ব্যবহার করে নদী থেকে হাতে হাতে বিপুল পরিমাণ আবর্জনা তুলে ফেলেন তিনি। এ কাজ করার সময় তার কাছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসামগ্রীও ছিল না। এমনকি তিনি সাঁতারও জানতেন না। তবু দিনের পর দিন নদীতে নেমে প্লাস্টিক, কাদা, শেওলা ও অন্যান্য বর্জ্য পরিষ্কার করেন বিট্টু।
নদী পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে নিজের সঞ্চয়ের টাকা ব্যবহার করেন বিট্টু তাবাহি। তবে এই কঠিন কাজের কারণে তার স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়ে। নদী পরিষ্কারের সময় তার শরীরের বিভিন্ন অংশে সংক্রমণ দেখা দেয় এবং ত্বকে চুলকানির সমস্যায় ভুগতে হয়। কাজ করার সময় কয়েকবার সাপের মুখোমুখিও হন তিনি।
সুরেন্দ্র একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান। তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন এবং বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

